১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের আবেদনে জটিলতা, যা বলছে এনটিআরসিএ

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ  © ফাইল ছবি

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার নিয়োগের আবেদন করতে পারছেন প্রার্থীরা। টেলিটকের সার্ভার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি সভায় বসতে যাচ্ছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) একটি সূত্র জানিয়েছে, আবেদনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হবে কিনা, সে বিষয়টি প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। এজন্য সভা করা হবে। সভার সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও চলতি সপ্তাহেই এ সভা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ পরিচালক (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সার্ভার জটিলতাসহ আরও কিছু বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি সভা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সভা কবে হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ টাকা। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদের শূন্যপদও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।

এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্যপদের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে শূন্যপদের সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে শূন্যপদের সংখ্যা ১৯০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছে ৩ হাজার ১৩১টি শূন্যপদ। তিন অধিদপ্তর মিলিয়ে মোট শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫৫৯টি।

আরও পড়ুন: অপেক্ষমান থেকে সরকারি মেডিকেল-ডেন্টালে ভর্তির সুযোগ পেলেন আরও ৬৮ শিক্ষার্থী

এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ পদে ৫৮৪টি এবং উপাধ্যক্ষ পদে ৬২৭টি শূন্যপদ রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৫১১টি এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ পদে ২৫৭টি শূন্যপদ রয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৯২৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৮৭২টি শূন্যপদ রয়েছে। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যপদ রয়েছে ৫০৪টি। এ খাতে মোট শূন্যপদ ১০ হাজার ২৭৮টি।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যক্ষ পদে ১১০টি, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে সুপারিনটেনডেন্ট পদে ৪০টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে ৪০টিসহ মোট ১৯০টি শূন্যপদ রয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কামিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ৩৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৫৩টি শূন্যপদ রয়েছে। ফাজিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২০২টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩টি, আলিম পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২১৯টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭টি শূন্যপদ রয়েছে। এছাড়া দাখিল পর্যায়ে সুপারিনটেনডেন্ট পদে ৮৯৯টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে ১ হাজার ৪টি শূন্যপদ রয়েছে। সব মিলিয়ে মাদরাসা শিক্ষায় শূন্যপদের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩১টি।