‘কথা দিচ্ছি জীবনে কোনদিন মেয়েকে মাদ্রাসা-মসজিদ-মন্দিরের আশপাশে যেতে দেব না’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ হতাশা প্রকাশ করেন আলোচিত অভিভাবক শাহজালাল রুমি। এ সময় সমাজের বিভিন্ন অসংগতি এবং নিজের নামে ছড়িয়ে পড়া বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগগুলোর কথা ব্যঙ্গাত্মক ও ক্ষোভের সুরে তুলে ধরেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুমি।
প্রশ্নকালীন শাহজালাল রুমির শেষ প্রশ্ন, শেষ আক্ষেপও তুলেন ধরেন। বলেন, ‘আপনাদেরও সন্তান আছে, নেক্সট জেনারেশনকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমরা সবাই ট্রমড, কারও কোনো সিকিউরিটি নাই। চৌদ্দগোষ্ঠীর কেউ সিকিউরিটি নাই। আপনারা কি হ্যাপি এখন? আপনারা হ্যাপি থাকলে আমি হ্যাপি। বাট মনে রাইখেন, আপনাদেরও সন্তান আছে। নেক্সট জেনারেশনকে আপনারা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমি আপনাদেরকে এই প্রশ্নটাই করে গেলাম।’ তিনি এ-ও বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, আমি জীবনে কোনদিন আমার মেয়েকে মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরের আশেপাশে যেতে দেব না।’
নানা গুজব ছড়ানো নিয়ে আক্ষেপ করে শাহজালাল রুমি বলেন, ‘আমি হচ্ছি বাংলাদেশের সবচেয়ে কুখ্যাত ব্যক্তি। আমি মেয়েদের সাথে ঘুরে বেড়াই, আমার চার-পাঁচটা বউ, আমি বাসা ছেড়ে পালিয়েছি। আমি ১৭ লক্ষ টাকা চুরি করেছি ভাই, পকেটে করে নিয়ে আসছি ১৭ লক্ষ টাকা। মেয়েদেরকে, মানে ওনার ওয়াইফকে আমি ব্যাড টাচ করেছি। প্রথমে আমাকে পানি খাওয়াইলো ওই দারোয়ান। তারপর আমি দারোয়ানকে মেরেছি, অথচ দারোয়ান আমাকে বলল যে কোন নেতার সাথে কথা বলো, সেই নেতার সাথে আমি কথা বলতে না পেরে রেগে আমি তাকে থাপ্পড় দিয়েছি। তারপরে দারোয়ান বুঝতে পারল যে নেতাই আমার কাজ করবে না। তারপরে দারোয়ান আমার পক্ষে আসলো। আমি দারোয়ানকে পিঠে হাত দিলাম। সরি বললাম যে আঙ্কেল, আপনার আমার সামনে এই মুহূর্তে আসা উচিত হয়নি। আমি দেশ থেকে চলে যাচ্ছি। এই দেশে থাকেন আপনারা!
নিজের নিরাপত্তার কথা বলে তুলে আলোচিত এই অভিভাবক বলেন, ‘আমার ফেসবুক আইডি হ্যাকড, আমি জাস্ট চুপ হয়ে গেছি। এটা কোন রাষ্ট্রে আমি বাস করতেছি? আমি কেন বলতেছি যে আমি আমি ভয় পাই না? আমি কার জন্য বলতেছি? না, আমি আসলেই ভয় পাচ্ছি। আমি কোন মানুষের রাষ্ট্রে বাস করতেছি না? তারা এআই দিয়ে কী সব বানাচ্ছে আমার নামে?'
রুমি বলেন, ‘ভিডিওগুলা তো আমি আপলোড করেছি, আপনারা তো খুঁজে পাননি। এই ভিডিওগুলো তো আমি আপলোড করেছি মানুষকে দেখানোর জন্য। এটা তো একটা হ্যাপি মোমেন্ট এবং একেকজন আমার পাঁচ, সাত, ১০ বছরের বড়; তারা আমার বোনের মতো। আমি তো হুজুরদেরকে সম্মান করতাম, শ্রদ্ধা করতাম বলে আমার মেয়েকে আমি মসজিদে দিয়েছি, আমি মাদ্রাসায় দিয়েছি। আমি কথা দিচ্ছি আপনাকে, আমি জীবনে কোনদিন আমার মেয়েকে মাদ্রাসা, মসজিদ মন্দিরের আশেপাশে যেতে দেব না।’
তার ভাষ্য, গত তিনদিন আমি যা শিখেছি, আমি গত ২৯ বছরে তা শিখিনি। কীসের নিরাপত্তা? কোনো নিরাপত্তা নাই আমার। কোনো নিরাপত্তা নাই। কে আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে? আমার ফোন তো ওপেন, আপনিও দেখছেন আমার ফোন ওপেন। আমি কি ফোন বন্ধ করছি? আমি দেখছি কে আমাকে থ্রেট দিচ্ছে, কে আমাকে ফোন দিচ্ছে, কে আমার খোঁজ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে আমাকে একটি ফোন দেয়নি কেউ, অথচ দুনিয়ার হাজার হাজার থ্রেট আমি পাচ্ছি। আপনার মেয়ের সাথেই ঘটনা ঘটলে, আল্লাহর কসম করে বলেন আপনি কি করতেন? দেখতেন বইসা বইসা বাবা হিসেবে? দেখতেন আপনি? চিন্তা করিয়েন না ভাই, আপনাদের সাথেও এগুলা ঘটবে। এগুলো ঘটতেই থাকবে। থামাইতে পারবেন না। কারণ এটা তাদের বিজনেস। ১৭ লক্ষ টাকা আমি কীভাবে নিলাম, যেখানে আমি পুলিশের সামনে কথা বললাম?
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই ট্রমড, কারও কোনো সিকিউরিটি নাই। চৌদ্দগোষ্ঠীর কেউ সিকিউরিটি নাই। আপনারা কি হ্যাপি এখন? আপনারা হ্যাপি থাকলে আমি হ্যাপি। বাট মনে রাইখেন, আপনাদেরও সন্তান আছে। নেক্সট জেনারেশনকে আপনারা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমি আপনাদেরকে প্রশ্নটা করে গেলাম আজ।’