১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২৯

‘আমি তো সেখানে চাঁদা তুলতে যাইনি, জমি দখল করতেও যাইনি’

ইশরাক হোসেন  © টিডিসি ফটো

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, তাঁকে ঘিরে গণমাধ্যমগুলো একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। এক ঘণ্টা পরপর তাঁর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, ‘একটা ঘটনা স্বনামধন্য গণমাধ্যমগুলো যেভাবে উপস্থাপন করেছে, তাতে কিছু বলার নেই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমি তো সেখানে চাঁদা তুলতে যাইনি, জমি দখল করতেও যাইনি।’ এ সময় গণমাধ্যমের প্রতি নিজের হতাশ হওয়ার কথাও জানান তিনি।

ইশরাক বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী, অস্ত্র, ইশরাক, অভিযান’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে গণমাধ্যমগুলো শিরোনাম করেছে এবং ফটোকার্ড তৈরি করেছে। শিরোনাম ও ফটোকার্ড তিনি সংবাদ সম্মেলনে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত আনেননি।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশেষ কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে বলে সংবাদ জানান ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দল চায়নি; বরং দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। পদত্যাগের পর মাদকের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসীভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

এর আগে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের পরে তাকে এখানে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এদিন সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’ ইশরাক আরও লেখেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। 

অভিযানের ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রোববার (১৮ অক্টোবর) দিনভর ঘটনাটি আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এ ঘটনায় বিএনপির মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্যও তা বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।