১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৭

ইনানীর রিসোর্টে আগুন: শোকের ছায়া তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে

নিহত তিন শিক্ষার্থী  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেসটো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির তিন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত রিসোর্টটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভি রয়েছেন।

নিহত অন্যদের মধ্যে মালিহা, মিলা, সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহমেদের নাম জানা গেছে। পরিবারের নয়জন সদস্য ওই রিসোর্টে বেড়াতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। নিহত নাফিজ, নাবিলা, মালিহা ও আলভি পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তাঁর ভাগ্নে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পান তাঁরা। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছিল।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এ শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করেন।

এর আগে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। রিসোর্টটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিমও মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে দুজনই পুড়ে অঙ্গার
কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার ফারিয়া কবীর (৩৩) ও তার পাঁচ বছরের ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ। বেড়াতে গিয়ে মা-ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে।

ফারিয়া কবীর চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত ঔষধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী। চাকরির সুবাদে গত আট বছর ধরে পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় বসবাস করছিলেন নুর আলম। ফারিয়ার গ্রামের বাড়ি বরিশালে বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে যান তারা। সেখানে ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে শনিবার সকালে আগুন লাগলে প্রাণ হারান ফারিয়া ও তার শিশুসন্তান ফায়িজান। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন নুর আলম। যাত্রাপথে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

একসঙ্গে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে হারিয়ে শোকের গভীর ছায়া নেমে এসেছে পরিবারটিতে। তাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।