বেসিক শতভাগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাতা বাড়ানোর আশ্বাস দিলেন রিজভী
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে অনেক দাবি পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের অন্যান্য দাবিগুলো পূরণ হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের যে দাবিগুলো আগে থেকেই রয়েছে, অনেক আগে থেকে, ৩০-৪০-৫০ বছর ধরে, সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে আপনাদের অনেক দাবি পূরণ হয়েছে। আজকে আপনারা শতভাগ বেসিক (সরকারি চাকরিজীবীদের আদলে) বেতন পাচ্ছেন। এরপর অন্যান্য যে ভাতাগুলো আছে, তার হয়তো শতভাগ না হলেও কোনোটির ২০ শতাংশ, কোনোটির ৩০ শতাংশ, কোনোটির ৫০ শতাংশ এভাবে পাচ্ছেন। এরপর আপনাদের যেসব দাবি আছে, সেগুলোও পূরণ হবে বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রথম থেকেই চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, তা নয়। আপনাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে আপনাদের অনেক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। আজকে মোটামুটিভাবে একটি অবস্থানের ওপর আপনারা কিছুটা হলেও দাঁড়াতে পারছেন।’ এ সময় শিক্ষকদের অন্যান্য ন্যায্য দাবিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নেতা।
রিজভী বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ হবে, হয়তো কিছুদিন সময় লাগবে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মা খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেই।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই সম্প্রদায়ের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সঙ্গে জাতির একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ-বেদনা ও আনন্দ যদি সবাইকে ভাগ করে নিতে না পারি, তাহলে আমাদের যে মসৃণ ঊর্ধ্বগতি, উন্নতি ও অগ্রগতি, তা সম্ভব নয়। মেরুদণ্ড যদি দুর্বল থাকে, তাহলে গোটা শরীরই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। জাতির মেরুদণ্ড যারা, তাদের যদি আজও নিজেদের দাবির জন্য রাস্তায় নামতে হয়, তাহলে এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তিনি বলেন, আজকে আপনারা যে বিষয় নিয়ে কথা বলছেন বা দাবি তুলছেন, নিশ্চয়ই এ বিষয়ে এর আগেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আমাদের অনেকের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা ও অনুভূতির যিনি উৎস, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। বিএনপি সরকার এবং আমি যে রাজনৈতিক দল করি, সেই দলের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসাধারণ সমন্বয় করার সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং মায়ের প্রতিশ্রুতি তাঁর সন্তান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করবেন না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। এটা হবে। হয়তো কিছুটা সময়ের ব্যাপার বলে আমি মনে করি।
রিজভী বলেন, আমি আগেই বলেছি, সর্বাগ্রে আমাদের শিক্ষা সেক্টর বা শিক্ষা খাতকে নির্মাণ করতে হবে। এটি হাসিনার আমলে, ফ্যাসিবাদের আমলে চরমভাবে ধ্বংস ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছে। খাতায় লেখেনি, কিন্তু পাস করিয়ে দিয়েছে।’
বদলি সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, বড় ধরনের সমস্যা যে স্বামী এক জায়গায় আছেন, আর স্ত্রীকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে আরেক জায়গায়। এগুলো আমি মনে করি এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনা। পৃথিবীর কোথায় আছে যে স্বামীকে দেবেন ভুরুঙ্গামারী আর স্ত্রীকে দেবেন নাইক্ষ্যংছড়ি?