বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করবেই
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ হবে, হয়তো কিছুদিন সময় লাগবে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মা খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগোষ্ঠীর এই সম্প্রদায়ের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সঙ্গে জাতির একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ-বেদনা ও আনন্দ যদি সবাইকে ভাগ করে নিতে না পারি, তাহলে আমাদের যে মসৃণ ঊর্ধ্বগতি, উন্নতি ও অগ্রগতি, তা সম্ভব নয়। মেরুদণ্ড যদি দুর্বল থাকে, তাহলে গোটা শরীরই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। জাতির মেরুদণ্ড যারা, তাদের যদি আজও নিজেদের দাবির জন্য রাস্তায় নামতে হয়, তাহলে এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
সুতরাং আমরা মনে করি, আজকে আপনারা যে বিষয় নিয়ে কথা বলছেন বা দাবি তুলছেন, নিশ্চয়ই এ বিষয়ে এর আগেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আমাদের অনেকের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা ও অনুভূতির যিনি উৎস, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। বিএনপি সরকার এবং আমি যে রাজনৈতিক দল করি, সেই দলের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসাধারণ সমন্বয় করার সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং মায়ের প্রতিশ্রুতি তাঁর সন্তান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করবেন না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। এটা হবে। হয়তো কিছুটা সময়ের ব্যাপার বলে আমি মনে করি।
রিজভী বলেন, আমি আগেই বলেছি, সর্বাগ্রে আমাদের শিক্ষা সেক্টর বা শিক্ষা খাতকে নির্মাণ করতে হবে। এটি হাসিনার আমলে, ফ্যাসিবাদের আমলে চরমভাবে ধ্বংস ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছে। খাতায় লেখেনি, কিন্তু পাস করিয়ে দিতে হবে। হেডমাস্টারকে ধমক দিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তাকে ধমক দিয়েছেন ঢাকা থেকে ডিজি সাহেব, আর ডিজি সাহেবকে ধমক দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে।
একজন শিক্ষক আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষার্থী খাতায় প্রশ্নই লেখেনি, শুধু প্রশ্নটি লিখেছে। এ নিয়ে যখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তখন কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘ওর ওপরেই নম্বর দাও।’
তিনি বলেন, শিক্ষা মানেই তো হচ্ছে, একটি জাতি যখন ন্যূনতম শিক্ষার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন শুধু সেই ছেলেটি বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, ভূগোল বা ইতিহাস শিখছে না; তার সঙ্গে সঙ্গে একজন শিক্ষিত মানুষ নৈতিকভাবে বলীয়ান হচ্ছে। শিক্ষা এমন একটি বিষয়, একজন শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষ আলোকপ্রাপ্ত মানুষ, নৈতিকভাবে বলীয়ান মানুষ। কিন্তু তখন চেষ্টা করা হয়েছে নৈতিকতার কোনো বালাই না রেখে তাকে পাস করিয়ে দিতে। আমাকে দেখাতে হবে ৯০ শতাংশ, ৯৫ শতাংশ পাসের হার। সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গা থেকে কিন্তু পরিত্রাণ দিতে হবে।
আপনারা যখন দাবি করছেন, আপনাদের কাছেও আমাদের দাবি আছে। এ দেশের মানুষের দাবি আছে। আমারও ব্যক্তিগত দাবি আছে। সেই পরিত্রাণ আপনাদেরও দিতে হবে।
বিএনপি নেতা বলেন, আপনাদের যে দাবিগুলো আগে থেকেই রয়েছে, অনেক আগে থেকে, ৩০-৪০-৫০ বছর ধরে, সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে আপনাদের অনেক দাবি পূরণ হয়েছে। আজকে আপনারা শতভাগ আপনাদের বেসিক বেতন পাচ্ছেন। এরপর অন্যান্য যে ভাতাগুলো আছে, তার হয়তো শতভাগ না হলেও কোনোটির ২০ শতাংশ, কোনোটির ৩০ শতাংশ, কোনোটির ৫০ শতাংশ এভাবে পাচ্ছেন। এরপর আপনাদের যেসব দাবি আছে, সেগুলোও পূরণ হবে বলে আমি মনে করি।
আপনারা প্রথম থেকেই চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, তা নয়। আপনাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে আপনাদের অনেক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। আজকে মোটামুটিভাবে একটি অবস্থানের ওপর আপনারা কিছুটা হলেও দাঁড়াতে পারছেন।
বদলি সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, বড় ধরনের সমস্যা যে স্বামী এক জায়গায় আছেন, আর স্ত্রীকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে আরেক জায়গায়। এগুলো আমি মনে করি এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনা। পৃথিবীর কোথায় আছে যে স্বামীকে দেবেন ভুরুঙ্গামারী আর স্ত্রীকে দেবেন নাইক্ষ্যংছড়ি?