২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫১

হাফ প্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে ঢুকতে বাধা, ৪০ মিনিট ‘হয়রানি’ শেষে মিলল অনুমতি

ছবিতে পুলিশ সদস্য ও অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন  © টিডিসি সম্পাদিত

সকালের শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। পোশাক ‘অশালীন’ উল্লেখ করে তাকে মেট্রোস্টেশনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ তার।

জানা গেছে, ওই প্রশিক্ষক প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ করান। নিজেও নিয়মিত দৌড়ান। ঢাকার বেশ কয়েকটি পার্কে ভোরবেলা এই প্রশিক্ষণ দেন। ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি ।

ভিডিওতে দেখা যায়, জাকির নামে এক পুলিশ সদস্যকে শুরুতে বলতে শোনা যায়, দাঁড়ান একটু চুলটা ঠিক করি। পরে সাজ্জাদ হোসেন তার কাছে হাফপ্যান্ট পরে স্টেশনে ঢুকতে না পারার কারণ জানতে চাইলে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, আপনাকে বলা হয়েছে আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান। এটা একেবারে পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না। সে সময় সাজ্জাদ হোসেন প্রশ্ন করেন, কোনটা শালীনতা, কোনটা শালীনতা না, সেটি আপনার নিয়মে লেখা আছে?’ জবাবে জাকির নামে পুলিশ সদস্য বলেন, ‘এটা দেখা আমার দায়িত্ব।

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সকালে রমনায় প্রশিক্ষণ করানোর পর ফার্মগেটে একটি কাজ ছিল। কাজ শেষে বিজয় সরণি যাওয়ার জন্য ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে যান। টিকিট কেটে স্টেশনে ঢোকার সময় সেখানে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে নেন। ধমক দিয়ে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, আপনি, এই সব কি ড্রেস পরেন, এই সব অশ্লীল ড্রেস পরে মেট্রোতে ঢোকা যাবে না! তিনি পুলিশ সদস্যকে জানান, তিনি একজন রানিং কোচ এবং প্রশিক্ষণ শেষে মেট্রোরেলে করে পরবর্তী জায়গায় যাচ্ছেন। মেট্রোরেলে শর্টস পরে যাওয়া যাবে না- এমন কোনো নিয়ম থাকলে তা দেখাতেও বলেন তিনি।

সাজ্জাদ হোসেনের ভাষ্য, সেখানে থাকা আরও দুই পুলিশ সদস্য তাকে বলেন, এটি পাবলিক প্লেস, এখানে এভাবে যাওয়া যাবে না। তাদের মধ্যে একজন তাকে ট্রাউজার পরে আসতে বলেন। এমনকি শর্টস খুলে রেখে পরে ট্রাউজার পরে আসার কথাও তাকে বলা হয়। এভাবে তাকে প্রায় ৪০ মিনিট সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের একজন নারী কর্মকর্তাও তার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই কর্মকর্তা তার ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। পরে মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে মেট্রোতে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।