আয়রনম্যান ৭০.৩ নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ট্রায়াথলেট ইসতিয়াক
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের জোন্স বিচে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতা। এই আন্তর্জাতিক ট্রায়াথলন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি ট্রায়াথলেট মো. ইসতিয়াক উদ্দিন। সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়—তিনটি কঠিন ধাপ একসঙ্গে পেরিয়ে ফিনিশিং লাইনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।
আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের প্রায় ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। দীর্ঘ দূরত্বের এই তিনটি ইভেন্ট পরপর শেষ করাই প্রতিযোগিতাটির মূল চ্যালেঞ্জ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কোর্স শেষ করতে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও মানসিক দৃঢ়তা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. ইসতিয়াক উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে দৌড়, সাঁতার ও দীর্ঘ দূরত্বের বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে হল পর্যায়ে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রভোস্ট অ্যাওয়ার্ডেও ভূষিত হন। সাঁতারের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এবং খেলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিং অ্যান্ড ওয়াটারপোলো দলেও।
এর আগে মালয়েশিয়ায় আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সফলভাবে ইভেন্টটি শেষ করেন ইসতিয়াক। ৬ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করে নিজের বয়স ক্যাটাগরিতে ১৩তম স্থান অর্জন করেন তিনি। এবার নিউইয়র্কের আয়রনম্যান ৭০.৩-এ নিজের আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও ভালো পারফরম্যান্সের লক্ষ্য রয়েছে তার।
শুধু ট্রায়াথলন নয়, দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতার ও ম্যারাথনেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ইসতিয়াক। ২০২২ সালে আন্দামান সাগরে ১০ কিলোমিটার সাঁতারের ইভেন্ট ‘ওশেনম্যান এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ অংশ নিয়ে বয়স ক্যাটাগরিতে পঞ্চম হন তিনি। ওই ফলাফলের মাধ্যমে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পরের বছর ২০২৩ সালে ‘ওশেনম্যান ওয়ার্ল্ড ফাইনাল চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সফলভাবে প্রতিযোগিতা শেষ করেন।
এর আগে ২০২১ সালে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন ইসতিয়াক। দেশের বিভিন্ন নদীতেও দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারে অংশ নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে পদ্মায় ২০ কিলোমিটার, মেঘনায় ৫ কিলোমিটার, যমুনায় ৩৫ কিলোমিটার ও ব্রহ্মপুত্রে ২৫ কিলোমিটার সাঁতারসহ অসংখ্য দীর্ঘ দূরত্বের ইভেন্ট সফলভাবে শেষ করেছেন।
দৌড়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। অসংখ্য হাফ ম্যারাথনের পাশাপাশি তিনটি ফুল ম্যারাথন এবং একটি আল্ট্রা ম্যারাথন সম্পন্ন করেছেন তিনি। নিজের ক্রীড়া চর্চার পাশাপাশি অন্যদেরও দৌড় ও শরীরচর্চায় উৎসাহিত করতে কাজ করছেন ইসতিয়াক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দৌড় ও ফিটনেসের চর্চা বাড়াতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি রানার্স কমিউনিটি’ (ডিইউআরসি)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী পেশাগত জীবনেও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশি স্টার্টআপ কোম্পানি ‘ইয়োর ক্যাম্পাস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে নিউইয়র্কে রিয়েল এস্টেট প্রফেশনাল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এবার নিউইয়র্কের জোন্স বিচে আয়রনম্যান ৭০.৩-এ অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান ইসতিয়াক। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতা সফলভাবে শেষ করে ফিনিশিং লাইনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোই এখন তার লক্ষ্য।