প্রতিটি মৃত্যুর পর একটি সংখ্যা বাড়ে না, একটি পরিবার ভেঙে যায়
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম। কিন্তু আর ঘরে ফেরা হয়নি তার। পরদিন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে মিলেছে তার মরদেহ। এই ঘটনাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা তুলে ধরে নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল। আর ঘরে ফেরা হয়নি। পরদিন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে পাওয়া গেল তার মর/দেহ। একটা শিশু বিকেলে ছবি তুলতে বের হবে, নিরাপদে ঘরে ফিরবে। একটি রাষ্ট্রে এর চেয়ে সাধারণ প্রত্যাশা আর কী হতে পারে?
তিনি লিখেন, ২৭ আগস্ট সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপির এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশ্ন তুলেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জবাব দিয়েছিলেন, “এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা।” এর দুই দিন পর, ২৯ আগস্ট। সেই জাতীয় সংসদ ভবনের সামনেই ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ হারালেন একজন প্রধান শিক্ষিকা।
রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছে। বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের খবর আসছে। নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। একজন মানুষ সকালে ঘর থেকে বের হলে তার পরিবার চায়, দিন শেষে সে সুস্থভাবে ঘরে ফিরুক। একটি শিশুকে বাইরে পাঠিয়ে মা যেন তার ফেরার অপেক্ষায় আতঙ্কে না থাকেন। এটুকু নিরাপত্তা চাওয়া রাষ্ট্রের কাছে মানুষের সবচেয়ে সাধারণ অধিকার। তাই একের পর এক প্রাণহানির খবরের মধ্যে শুধু ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে’ বললে মানুষের ভয় দূর হয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে মানুষের এই ভয়টা বুঝতে হবে এবং জবাব দিতে হবে। কারণ প্রতিটি মৃত্যুর পর একটি সংখ্যা বাড়ে না, একটি পরিবার ভেঙে যায়।