১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১১

স্থানীয় নির্বাচনে থাকছে না শিক্ষাগত যোগ্যতা

নির্বাচন কমিশন  © সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই।’

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নানাভাবে আলোচনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। যারা আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তাদের অনুরোধ করব, এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হবেন না।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই। ইউপি চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ানোর জন্যও এর বাধ্যবাধকতা নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র, কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্যও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সরকার আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রে বা পরিষদে বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বজনীন পদে অধিষ্ঠিত থাকলে অযোগ্য হবেন তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাকে এক জায়গায় করে ঠিক করবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না। এরপরও নির্বাচন কমিশনের আইনগত কোনো মতামতের প্রয়োজন হলে, অথবা বিষয়টি বিস্তারিত জানার প্রয়োজন কিংবা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে, সেক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেব।

তিনি বলেন, এমপি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমি এমপি হয়েছি, আমার তো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয়নি। কারণ আইনে নেই, সংবিধানেও নেই। যেহেতু সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, লোকাল গভর্নমেন্টের পাঁচটি আইনেও আমরা এটি রাখিনি।

তিনি আরও বলেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হতে পারে। একজন সমাজসেবক লেখাপড়া না করে স্বশিক্ষিত হতে পারেন। কোনোদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়েও তার মধ্যে জ্ঞান থাকতে পারে। তার মধ্যে যদি জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা থাকে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সাংবিধানিক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।