০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১৬

চাকরির পরীক্ষায় বাড়ছে মৌখিকের নম্বর, তথ্য উপদেষ্টা বললেন—‘ভাইভা কি পরীক্ষা না?’

তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান  © সংগৃহীত

সরকারি চাকরির নতুন খসড়া বিধিমালায় ভাইভায় নতুন মার্কিং ‌‌সরকারের কাছে ‘বেটার’ মনে হয়েছে বলেই বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন সম্ভব প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) বেশি নম্বর রাখার সিদ্ধান্তকে নিয়োগের মানোন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ-উর-রহমান বলেন, ‘যখন ভাইভায় বেশি নম্বর থাকে, যেহেতু এটা সাবজেক্টিভ, এখানে কারও নিজের ফেভার বা কাউকে ফেভার করার একটা সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। আমি দ্বিমত করছি না। কিন্তু একই সঙ্গে আমি এ কথাটা বলতে চাই, সেই প্রশ্নটা যদি আসে, আমরা সেটার সমালোচনা করি। এই প্রক্রিয়ায় যদি আমরা সমস্যা দেখতে পারি, সরকার বিশ্বাস করেছে যে এই ধরনের মার্কিং রাখা এবং সরকার এটা আইনগতভাবে করতে পারে। সরকার আইনগতভাবে কোনো অন্যায় কিছু করেনি। আইনগতভাবে করতে পারে। সরকারের মনে হয়েছে, এর মাধ্যমেই বেটার কিছু সম্ভব।’

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে বিধিমালা পরিবর্তন করা হচ্ছে। ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না? সাংবাদিকের এমন প্রশ্ন করলে জাহেদ উর রহমান বলেন, আপনি প্রশ্ন এনেছেন। সো ইউ হ্যাভ টু ক্লিয়ার ইট। আপনি ক্লিয়ারলি বলুন।

তিনি বলেন, আমি দ্বিগুণ নাম্বারের ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে এসেছি। আমরা এই প্রশ্ন করি নাই যে এখানে দুর্নীতি হচ্ছে, কাউকে ভুল করে পাশ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপনার প্রশ্নের মধ্যে একটা পারসেপশন আছে। সেটা হচ্ছে, ভাইভা বাড়ানো হচ্ছে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে; তাই তো? ‘ভাইভা কি পরীক্ষা না’- এমন প্রশ্ন তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যেমন আমার কথা বলি— আমি মেডিকেলে পড়াশোনা করেছি, আমার রিটেনের চাইতে দ্বিগুণ ভাইভা দিতে হয়েছে। আমার পরীক্ষা তাই ছিল। আমার পরীক্ষার প্যাটার্ন যে মেডিকেল স্টুডেন্ট জানেন, যে তার ভাইভাই প্রধান পরীক্ষা। এখন ভাইভা থাকায় সমস্যাটা কী? 

তিনি আরও বলেন, আমি আপনাকে এইমাত্র উদাহরণ দিলাম, আমি দ্বিগুণ নাম্বারের ভাইভা দিয়ে তো আমরা এই প্রশ্ন করি নাই যে এখানে দুর্নীতি হচ্ছে, কাউকে ভুল করে পাশ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার মানে, টেকনিক্যাল সাবজেক্ট আমরা বিসিএস বা অন্যান্য পরীক্ষাগুলো; সবগুলোতেই কম রাখি। আপনি কি মনে করছেন এই সিস্টেমটা ঠিক?

যেমন ধরুন, আমি আমার এক্সপেরিয়েন্সের কথা বলি। একটা চাকরি মানে শুধু বইয়ের নলেজ না। আগেরটা ঠিক ছিল না মনে করেই পরিবর্তন করা হয়েছে। আপনি বলতেই পারেন, সরকার দুর্নীতি করার জন্য এটা করছে। বলতে পারেন যে, আপনারা আপনাদের সিলেক্টেড মানুষ; এটা ইউ ক্যান। আপনি যখন প্রশ্ন তুলছেন, আপনার এত ডিপ্লোম্যাটিক হওয়ার প্রয়োজন নাই। জার্নালিস্টের কাজ কিন্তু প্রশ্ন করা। করতে পারেন। আমি সেই প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত আছি।

নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি এই সরকারের পক্ষ থেকে বলছি না। আমি বেশ কিছু ভাইভা নিয়েছি, বেশ কিছু রিসেন্ট ভাইভা নিয়েছি। আমি তো জানি না কে রিটেনে কেমন করেছেন। কিন্তু আমি এভাবে বলতে চাই, আমি ভাইভাতে এমন কিছু ক্যান্ডিডেটকে পেয়েছিলাম, আমার মনে হয়েছিল তারা যদি রিটেনে যথেষ্ট ভালো নাও করে থাকে, আমার মনে হয়েছে; মাই পারসেপশন— এদেরকে নিয়ে নেওয়া উচিত।

ধরুন, আমরা আমাদের ক্লাস ওয়ান জবের জন্য যাদেরকে নিই, আমাদের প্রায় সব বিসিএস ক্যান্ডিডেটদের প্রথম চয়েস থাকে বিসিএস প্রশাসন। তারপর পুলিশ বা এরকম কিছু। দিনের শেষে আমরা আসলে এখানে একজন অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আছি। আমাদের অনেকে রিটেনে ভালো করে। কিন্তু আমরা চাকরিতে ভালো করার জন্য আরও কিছু অ্যাপটিটিউড আছে, যেটা আমার বিবেচনায় ভাইভা দিয়ে ভালো অ্যাসেসমেন্ট হতে পারে।

আমি সাংবাদিকদের প্রতি বা সংবাদমাধ্যমের প্রতি আপিল করি, কোনো নিয়োগের পর যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়, সেটা নিয়েও যেন আপনারা কথা বলেন। এই অনিয়ম যদি হয়, সেটাকে নিশ্চয়ই আপনারা তুলে ধরবেন।