৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৪৫০ ল্যাপটপসহ ১০১ কার্টন নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দর  © সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা কোটি টাকার ১০১ কার্টন নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর এবং এয়ারফ্রেইট সার্কেলের যৌথ দল বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকার ৮ নম্বর ডেলিভারি গেট সংলগ্ন ইয়ার্ডে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এ অভিযানে মিথ্যা ঘোষণায় আনা প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ১০১ কার্টন নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য জব্দ হয়।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সরদার গ্লোবাল ট্রেড’ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এয়ার ওয়েবিল নম্বর ১৭৬-৬৩৫১৮৭২২-এর মাধ্যমে চালান দেশে আনে। কাগজপত্রে মোটর পার্টস, কসমেটিক্স, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টস প্রদেয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

পণ্যচালান খালাসের জন্য আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘ফাহিম ৫ স্টার লিমিটেড’ গত ২৯ জুলাই কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’-এ বিল অব এন্ট্রি (নম্বর সি-৭৬৪১৭৭) দাখিল করে। তবে কাস্টমস গোয়েন্দা দল চালান আটকে পরীক্ষা চালায়।

এসময় ১০১টি কার্টন পরীক্ষা করে কাস্টমস কর্মকর্তারা ৪৫০ পিস ব্যবহৃত ল্যাপটপ (এইচপি, ডেল, লেনোভো, মাইক্রোসফট), ৯৬৩ দশমিক ৮ কেজি অটোমোবাইল পার্টস, ৯৬ পিস হার্ডড্রাইভ, ২৯১ দশমিক ১৪ কেজি কসমেটিক্স, ৯৬ পিস ব্যবহৃত মিনি পিসি ও হাতঘড়িসহ ঘোষণাবহির্ভূত সামগ্রী উদ্ধার করেন।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জব্দকৃত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত ক্যাটাগরির হওয়ায় শুল্ক-কর পরিশোধ করেও খালাস করার আইনি সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ ছাড়া আনা এসব নিম্নমানের কসমেটিক্স জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পাশাপাশি পুরোনো ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নতুন বলে বাজারে বিক্রি করে ভোক্তাদের প্রতারিত করা ও পরিবেশের ক্ষতি সাধনের ঝুঁকি ছিল।

অন্যদিকে, ৯৬৩ দশমিক ৮ কেজি মোটর পার্টস প্রকৃতপক্ষে অসম্পূর্ণ বা আনঅ্যাসেম্বলড গাড়ি কি না এবং এর চেসিস অন্য কোনো কনটেইনারে আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

কাস্টমস আইন অনুযায়ী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সরদার গ্লোবাল ট্রেড’ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘ফাহিম ৫ স্টার লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এনবিআর।