কাদায় পুঁতে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে কাদায় পুঁতে বৃদ্ধ হারিচ আহমেদ ওরফে মজিবুরকে (৬৫) হত্যার ঘটনায় মামলার দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন নয়াকাটা গ্রামের মৃত মোজাহার ওরফে মুজাফফর হাওলাদারের ছেলে মো. সালেক হাওলাদার (৪০) এবং একই গ্রামের ইউনুচ মিয়ার ছেলে মো. ছারোয়ার (৩৫)।
র্যাব-৮ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ জুলাই রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জুলকুড়ি উত্তরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালেক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২৫ জুলাই ঢাকার গুলশান থানাধীন আজাদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর আসামি মো. ছারোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সালেককে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এবং ছারোয়ারকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে মহিপুর থানা পুলিশ আসামি সালেক হাওলাদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মহিপুর থানাধীন ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামের বৌলতলী মৌজায় ভিকটিম হারিচ আহমেদের ভোগদখলীয় জমিতে জোরপূর্বক ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদের চেষ্টা চালায় একটি প্রভাবশালী পক্ষ। হারিচ আহমেদ এতে বাধা দিলে প্রধান আসামি খলিল মিয়াসহ অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে হাত-পা বেঁধে চাষের জমির কাদায় পুঁতে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে পরিবারের নারী সদস্যদেরও গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হারিচ আহমেদকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার পরদিন ২০ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত ২১ জুলাই নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে খলিল মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করে মহিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, হারিচ আহমেদ হত্যা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সালেক হাওলাদারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।