২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮

৪০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও এনজিও; ভুক্তভোগী শতাধিক গ্রাহক

পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা  © সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি এনজিওর বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ৪০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির মাঠকর্মী সীমা রাণী সরকার জামালগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর আগে সাচনা বাজারে বিপ্লব পালের ভবনের দ্বিতীয় তলায় কার্যালয় ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’। প্রতিষ্ঠানটি ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট ও দৈনিক সঞ্চয় কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত।

অভিযোগ রয়েছে, গত চার বছরে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে সংস্থাটি। সম্প্রতি গ্রাহকেরা তাদের জমা করা টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে গত ১৭ জুলাই সকালে গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা কার্যালয়ে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।

সংস্থাটির মাঠকর্মী সীমা রাণী সরকার বলেন, তিনি চার বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রতিদিন গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করে ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কাছে জমা দিতেন। গত ১৭ জুলাই অফিসে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন এবং দু-তিন দিনের মধ্যে আসবেন বলে জানান। আমি একজন সাধারণ মাঠকর্মী। গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই জামালগঞ্জ থানায় জেসমিন আক্তার, তার স্বামী এবং সংস্থাটির আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন সীমা রাণী সরকার। পরে ২২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

অভিযুক্ত ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর জামিনুর হক বলেন, ‘বিভিন্ন গ্রাহকের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’