পাঁচ বছরে ৪ লাখ শিশু পাবে খেলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ
পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ও উগান্ডার চার লাখ শিশু পাবে খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ। মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং লেগো ফাউন্ডেশন 'স্প্ল্যাশ' নামক একটি উদ্যোগ শুরু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ও উগান্ডায় মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত চার লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুদের লালন-পালন ও বিকাশে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সোনারগাঁও হোটেলে 'সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)' শীর্ষক উদ্যোগটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪৭ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু সংঘাত ও মানবিক সংকটপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। যেখানে ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। এসব অঞ্চলে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের পাঁচ বছর মেয়াদি ৫ কোটি মার্কিন ডলারের এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উগান্ডায় মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুদের লালন-পালন ও বিকাশে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের এই অংশীদারত্ব সব বয়সী শিশুদের খেলাধুলার মাধ্যমে শেখা এবং তাদের সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শিশুদের জন্য বিনিয়োগ করার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় যত্ন, সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা হলে আগামী দিনে আমরা একটি দায়িত্বশীল, সহনশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারব; যারা দেশকে আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নেবে।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সেটি অবশ্যই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদার ভিত্তিতে এবং তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে হবে। প্রকল্প ভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিভঙ্গিই লেগো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারত্বকে অনন্য করে তুলেছে। গত ৫০ বছরে ব্র্যাক এমন সব কার্যকর, ব্যয় সাশ্রয়ী এবং বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নযোগ্য মডেল তৈরি করেছে, যেগুলো পরে বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) এখনো এমন সব উদ্ভাবনী মডেল তৈরি করে চলেছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম।
আসিফ সালেহ্ আরও বলেন, আমরা এমন এক সময়ে রয়েছি, যখন পারস্পরিক আস্থা, সামাজিক সংহতি ও আশাবাদ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। তাই আমাদের আবারও মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে ফিরে যেতে হবে এবং প্রতিটি শিশুর জন্য প্রারম্ভিক বিকাশ, শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মাধ্যমে শেখা, বেড়ে ওঠা এবং বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের মতো দূরদর্শী পথপ্রদর্শকদের কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অর্থবহ পরিবর্তনের সূচনা হয় আশাবাদ, মহৎ উদ্দেশ্য এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার থেকে। ১৯৭২ সালে আরও অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যদি আমরা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়ে থাকি, তবে আজও তা সম্ভব। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা আশা করি, স্প্ল্যাশ বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠবে।
ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের এই অংশীদারিত্বের প্রথম ধাপ ‘স্প্ল্যাশ’ বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এ উদ্যোগের আওতায় শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে অল্পবয়সী শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য শিশুদের চাহিদা বুঝে যত্ন নেওয়া, আশ্রয়শিবিরে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে খেলাধুলাভিত্তিক প্রারম্ভিক শিক্ষা, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণে সহায়তা এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য অব্যাহত শিক্ষা, জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা মেন্টরশিপ ও জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি।
এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অংশীজনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।