২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬

ভ্যাকসিন সংকটে বাড়ছে ক্ষুরা রোগ,দুশ্চিন্তায় খামারিরা

ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরু  © টিডিসি ফটো

বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর মধ্যে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুরা রোগ। জেলার অনেক খামারেই একের পর এক গরু আক্রান্ত হওয়ায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ রোগে আক্রান্ত পশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

খামারিদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় আক্রান্ত পশুর চিকিৎসায় অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। বাজার থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক চাপে পড়েছেন।

সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী গ্রামের খামারি মিলন চন্দ্র রায় জানান, তার পালন করা ছয়টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত গরুগুলোর পরিচর্যা করছেন।

তিনি বলেন, নিজের কাজকর্ম ফেলে সারাক্ষণ গরুর পেছনে সময় দিতে হচ্ছে। সরকারি কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ পাচ্ছি না, বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।

মিলনের স্ত্রী শিপু রানী বলেন, গরুগুলোর চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, এত খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একই এলাকার খামারি নাসির জানান, একটি গরু আক্রান্ত হওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তার আরও চারটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বাছুর মারা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় আরও কয়েকটি গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সদরের পশ্চিম গুদিঘাটা এলাকার বাসিন্দা রাজিব হোসেন বলেন, এ বছর এলাকায় অনেক গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষুরা রোগ একটি সংক্রামক রোগ। এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কোরবানির সময় পশু পরিবহনের কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের কাছে ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন নেই। কোরবানির আগেই চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। এরপর টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এদিকে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জেলার খামারি ও পশুপালকেরা।