১৫ জুন ২০২৬, ১৮:৪৭

গত ১৫ বছর ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা

রুমিন ফারহানা   © সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে বাংলাদেশের ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে শেয়ার বাজার এবং কর ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে পুরো চাপ গিয়ে পড়বে ব্যাংক খাতের উপরে। আজ সোমবার (১৫ জুন) সংসদ অধিবেশনে বাজেট ঘাটতি ও সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি কয়েকটি পরিসংখ্যান দিয়ে শুরু করছি। বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৬৮ লক্ষ কোটি টাকা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.৪৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৯.৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ, যেটা টাকার পরিমাণে এসে দাঁড়ায় ৬ লক্ষ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধনের পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক এগিয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটি এখন ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশ। 

‘‘বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে ২২ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশ। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এবং হয়ে দাঁড়িয়েছে ২২.২১ বিলিয়ন ডলার। যেটি ইন্ডিকেট করে রপ্তানির হ্রাস এবং আমদানির বৃদ্ধিকে। আগের যেটা ছিল ২২ শতাংশ। শ্বেতপত্র বলছে বাংলাদেশ থেকে গত ১৫ বছরে পাচার হয়ে গেছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অন্যদিকে গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বলছে ওভার এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বছরে আট বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বাইরে গেছে।’’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গত ১৫ বছরে ব্যবহার করা হয়েছে। যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নাই তাদেরকে ঋণ দেয়া হয়েছে। পরিবারের হাতে ব্যাংকগুলোকে একটির পর একটি তুলে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদহার ও ডলারের দাম ঠিক করা হয়েছে। ডলারের উপর চাপ কমাতে দাম ধরে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার এই খাত থেকে বিদেশে চলে গেছে। শেয়ার বাজার এবং কর ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে পুরো চাপ গিয়ে পড়বে ব্যাংক খাতের উপরে। 

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশে ঘাটতি বাজেট দেওয়ার একটি সংস্কৃতি আছে এবং এই ঘাটতি পূরণ হয় দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে। ব্যাংক খাত যেখানে অলরেডি খেলাপি ঋণ বা মন্দ ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে সেখানে এই ব্যাংকগুলো আর ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য কোনো ঋণ দেওয়ার অবস্থায় আছে কিনা সেটা একটি বড় প্রশ্ন। আইএমএফ সম্প্রতি জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশে যেই ঋণের চুক্তি হয়েছিল তার পরবর্তী কিস্তিগুলো নতুন সরকারকে আর দেবে না। তারা নতুন করে চুক্তি করতে বলছে। 

‘‘সুতরাং এখন ঋণের দিকে আমাদের থাকাতে হবে চীন বা এরকম কোনো দেশের দিকে। আমরা যখন কোনো ভিন্ন দেশ থেকে ঋণ নেই এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা আইএমএফ এর বাইরে গিয়ে তখন দেখা যায় সেখানে সুদের হার অনেক বেশি থাকে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি পরিশোধেরও একটা চাপ থাকে।’’