২৫ মে ২০২৬, ২৩:৫৩

কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে, সরু গলি আর পানির অভাবে বেগ পায় ফায়ার সার্ভিস

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার  © সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটারের যৌথ প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে বস্তির ভেতরের রাস্তাগুলো অত্যন্ত সরু হওয়া এবং আশপাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) রাতে অগ্নিকাণ্ডস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার জানান, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে কালশী বস্তিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ ঘর ও দোকানপাট রয়েছে এবং প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস। সংবাদ পাওয়ার পর ৭টা ৩২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পরবর্তীতে আগুনের ভয়াবহতা ও তীব্রতা দেখে পর্যায়ক্রমে আরও ১৪টি ইউনিটকে তলব করা হয়। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৫টি ইউনিট, ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ, ভলান্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত সহায়তায় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

অপারেশনে বিলম্ব ও বেগ পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ফায়ার সার্ভিসের এই পরিচালক বলেন, "এখানে প্রথম বড় সমস্যা ছিল রাস্তাগুলো অত্যন্ত সরু (ন্যারো)। ফলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো মূল অগ্নিকাণ্ডস্থলে পৌঁছাতে পারছিল না। দ্বিতীয় বড় সমস্যা ছিল আশপাশে কোনো পানির উৎস (পুকুর, জলাশয় বা হাইড্রেন্ট) ছিল না। পানির তীব্র সংকটের কারণে আমাদের ১৫টি বিশেষ পানিবাহী গাড়ি (ওয়াটার বাউজার) দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে আসতে হয়েছে এবং সেই পানি ব্যবহার করেই আগুন নেভাতে হয়েছে।"

আজকের আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়া বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বস্তির ভেতরে ভাঙারি, কাগজপত্র এবং প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকান ছিল। ভেতরের অধিকাংশ মালামালই ছিল অত্যন্ত দাহ্য প্রকৃতির (যেমন: কাগজ ও কাপড়)। এছাড়া আজ বৃষ্টির কারণে বাতাসে প্রচুর বেগ থাকায় আগুন খুব দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

আজকের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ বা হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বস্তিতে কয়েকদিন আগে হওয়া একটি উচ্ছেদ অভিযানের সাথে এই অগ্নিকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র বা নাশকতা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, "উচ্ছেদের সাথে আগুনের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণ তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উৎস অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।"