২২ মে ২০২৬, ১১:০৯

সাত ঘণ্টা পর চট্টগ্রামে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, অভিযুক্ত ডিবি হেফাজতে

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক যুবক মনিরকে ছিনিয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক হয়েছে রাত একটার দিকে। এসময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশেল কয়েকজন সদস্য সহ সংঘর্ষে তিন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ওই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যা ছয়টা থেকে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। 

রাত ১০টার দিকে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার পর অভিযুক্ত মনিরকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সর্বশেষ রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিশুটির বাবা-মা দুজনই চাকরিজীবী। বিকেলে শিশুটি খেলতে বের হলে এক যুবক তাকে লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একটি ভবনের সিঁড়িতে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

পরে পুলিশ অভিযুক্ত মনিরকে আটক করার পর তাকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ মনিরকে একটি ভবনের ভেতরে নিয়ে যায়।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিক্ষোভকারীরা ভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তবে এরপরও অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে পারছিল না পুলিশ। এ সময় স্থানীয় লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন।

রাত আটটার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে আবারও জড়ো হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা আহত হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চট্টগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকার দুই প্রতিবেদক মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান আহত হন। পত্রিকাটির সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতেখার নিশ্চিত করেছেন। অপরজন হলেন, চ্যানেল-এস এর ব্যুরো প্রধান আকাশ দে। তবে আহত পুলিশ সদস্যেদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সংযোগ তোলেননি।

র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) এমদাদুল হক জানান, নগরে র‍্যাবের নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এবং বাকলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির খবর পেয়ে তাদের একটি পেট্রোল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র‍্যাব সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।