মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাই নিহত
নিহত আম্মার শেখ পিরোজপুরের কদমতলা এলাকার এইচ এম তাসলিম মাহমুদের ছেলে। সে তার মা মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি বাইনেবাড়ি এলাকায় নানা হাতেম আলীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত আলী আবদুল্লাহ বাগেরহাট শহরের সাহাপাড়া এলাকার তারেক হাওলাদারের ছেলে। সম্পর্কে তারা একে অপরের মামাতো-ফুফাতো ভাই।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় মামাতো ভাই আলী আবদুল্লাহ তার ফুফুর বাড়ি বাসাবাটি বাইনেবাড়ী এলাকায় বেড়াতে আসে। রাতে একসাথে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই ভাই বাড়ির দোতলার একটি রুমে ঘুমাতে যায়।
ঘুমানোর একপর্যায়ে পারিবারিক পুরোনো বিরোধ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর জের ধরে আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে আলী আবদুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আম্মার শেখের ঘাড়, বুক ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
আহত আম্মারের চিৎকার শুনে তার মা মাহফুজা খাতুন ও আশেপাশের লোকজন দ্রুত দোতলার রুমে ছুটে আসেন। তারা আম্মারকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর পরই উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক আলী আবদুল্লাহকে রক্তমাখা ছুরিসহ ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে ছুরি উদ্ধারসহ হেফাজতে নেয় এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে পুলিশ নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গ থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম জানান, তুচ্ছ ঘটনা নাকি সুনির্দিষ্ট কোনো পারিবারিক শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘাতক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।