যশোরের অভয়নগরে যে হাটে মানুষ কেনাবেচা হয়
দাসপ্রথা বিলুপ্ত হলেও এখনও মানুষ কেনাবেচার হাট বসে যশোরের অভয়নগর উপজেলায়। ভোরবেলা থেকেই মানুষ আসা শুরু করে এ হাটে। নিজেকে বিক্রির জন্য অপেক্ষায় থাকেন তারা।
জানা গেছে, ২০ থেকে ৬০ বছর বয়সী অসংখ্য মানুষ সেখানে উপস্থিত। তাদের হাতে কাস্তে, মাথায় টুপি, পরনে লুঙ্গি, কাঁধে গামছা। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রান্তিক কৃষকের অপেক্ষায় বসে আছেন তারা। কৃষক এলে দরদাম ঠিক হবে, তারপর ধান কাটতে যাবেন তারা।
প্রতিবছর ধানকাটা মৌসুম এলেই যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন নূরবাগ এলাকায় শ্রমিকের হাট বসে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শত শত শ্রমিক ধান কাটার উদ্দেশ্যে এখানে আসেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে জনপ্রতি টাকার চুক্তি হলে তারা কাজ শুরু করেন। প্রায় এক মাস কাজ শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান শ্রমিকরা।
নূরবাগ রেলক্রসিংয়ের পাশে রেললাইনে এ সময় অসংখ্য ধানকাটা শ্রমিককে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিক মো. জাহাঙ্গীর জানান, একদিন আগে অভয়নগরে এসেছেন। তাদের দলে ৫ জন সদস্য। দরদাম ঠিক না হওয়ায় সকালে কাজে যেতে পারেননি।
রাজশাহী থেকে আসা ধানকাটা শ্রমিক কাওসার বলেন, গত তিন দিন ধরে দুইজন কৃষকের কয়েক বিঘা জমির ধান কাটা শেষ করেছেন। নতুন কাজের আশায় হাটে এসেছেন। নতুন একজনের সঙ্গে দরদাম চলছে। ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা মজুরি চাওয়া হচ্ছে। দরদামে পাত্তা না পেলে কাজে যাচ্ছেন না।
বুইকরা গ্রামের কৃষক বাধন বলেন, ৬ বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। স্থানীয়ভাবে ধানকাটা শ্রমিকের সংকট রয়েছে। যে কোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে। তাই শ্রমিক ভাড়া করতে নূরবাগ হাটে এসেছেন। প্রতিবছর এখান থেকে শ্রমিক নেওয়া হয়। এবার শ্রমিকের মজুরি বেশি। জনপ্রতি সাড়ে ১ হাজার টাকা বলার পরও শ্রমিকরা যেতে রাজি হচ্ছেন না। তাদের চাহিদা জনপ্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তারা সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করবেন।
অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, অভয়নগরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।
ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ধান কাটা অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা সম্পন্ন হবে।