৩০ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫২

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ জামায়াতের এমপি, সমালোচনায় সারজিস

মাহবুবুল আলম সালেহী ও সারজিস আলম  © টিডিসি সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ সময় তিনি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাকে ‘ইউনিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাকে আলাদা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বাবা ও মা—উভয়েই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন এবং তিনি নিজেও অল্প সময়ের মধ্যে এক্সাইল থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, যা এশিয়ার রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

তিনি বলেন, এক্সাইল (নির্বাসন) থেকে সরাসরি ৫৩ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। এর আগে যেটা এশিয়া মহাদেশে আয়াতুল্লাহ খামেনির ক্ষেত্রে মাত্র ৫৯ দিন ছিল; হামিদ কারজাইয়ের দুই মাসের ছিল। সেই রেকর্ডও ভেঙেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এসব ইউনিকনেসকে আমি সম্মান করি। এ সময় তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরে প্রশংসা করেন।

এদিকে ব্যারিস্টার সালেহীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম। জামায়াতের এই এমপির ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আপনার ভুলে গেলে চলবে না আপনি অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের বিরোধী দলের একজন এমপি। আমরা আপনাদেরকে জনগণের আকাঙ্ক্ষার শক্ত কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে প্রশংসা করার অনেক সময় সুযোগ পাবেন কিন্তু সংসদের মূল্যবান সময়গুলোকে দেশ এবং জনগণের আমানত রক্ষার কাজে ব্যবহার করবেন কাইন্ডলি।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার পাশাপাশি বক্তব্যে মাহবুব সালেহী আরও বলেন, বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ সংসদ নয়। এখানে এমন সদস্য রয়েছেন যারা ফাঁসির সেল থেকে ফিরে এসে নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ ‘আয়নাঘর’ থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও একজন নারী সদস্য তার স্বামীর অনুভূতি ধারণ করেই সংসদে এসেছেন—যা এই সংসদের ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি দল তাদের মেনিফেস্টোর সপ্তম পাতায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৫ অক্টোবর গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, আইনের কোনো বাধা নেই এবং গণভোট পাস হলে সরকার তা বাস্তবায়ন করবে।

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জুলাই সনদের গণভোটে চতুর্থ প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলের তা মেনে চলার বিষয়ে ৬৯ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানায়। কিন্তু এখন সরকার সেই গণরায় অস্বীকার করার পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, “জনগণের স্পষ্ট রায় থাকার পরও কেন সরকার পিছু হটছে?”