এবার পাল্টা ভিডিও প্রকাশ করে অবস্থান জানাল নবীন ফ্যাশন
রাজধানীর মগবাজারে শাখা বন্ধের ঘটনাকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে এবার পাল্টা ভিডিও প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে নবীন ফ্যাশন কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৫ মার্চ) প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়, ৩০ রমজান (২০ মার্চ ২০২৬) মগবাজার শাখা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তের ভিডিও তারা প্রকাশ করেছে। এতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিন অয়েল প্রদান কার্যক্রমের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, আরও কিছু ভিডিও শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে নবীন ফ্যাশন কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তোলে, তাদের সম্মানিত গ্রাহকেরা কি সত্যিই রাস্তা অবরোধ করে সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছিলেন? তাদের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল এবং তা ভিডিওর মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না।’ ঘটনাদিনে তারা কোনো ধরনের প্রতিবাদ না করে ইফতারের আগ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে নিজেদের ‘মজলুম’ হিসেবে ফরিয়াদ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
উপচে পড়া ভিড় সামলাতে না পেরে নিজেরাই বন্ধ করেছে: দোকান মালিক সমিতি
এদিকে নবীন ফ্যাশন বন্ধ ইস্যুতে নবীন হাশেমির দেওয়া বক্তব্য ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার দাবি করেছে দোকান মালিক সমিতি। তাদের দাবি, এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি; বরং দুটি পণ্যের বিপরীতে দুটি ফ্রি (যদিও নবীনের অফিসিয়াল পেজে দুটি কিনলে ৪টি ফ্রি লেখা) দেওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিন অয়েল দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি এমন পরিস্থিতি হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিশাল সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার জাহান।
তিনি বলেন, গতকাল তিনি (নবীন ফ্যাশনের মালিক) যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়। এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন না। মূল ঘটনা হলো, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে এই মার্কেটে তার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এই দীর্ঘ সময়ে এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
দোকান বন্ধের পরিস্থিতি জানিয়ে ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, ঘটনার দিন, ২০ রমজান (রমজানের শেষ দিন), দুপুরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি প্রমোশনাল অফার ঘোষণা করেন। অফারটিতে বলা হয়—দুটি পাঞ্জাবি কিনলে দুটি ফ্রি, বৃষ্টিতে রিকশায় এলে রিকশা ভাড়া প্রদান, এবং মোটরসাইকেল চালকদের জন্য অতিরিক্ত ৯৫০ টাকা মূল্যের একটি ‘এরাবিয়ান ইঞ্জিন অয়েল’ ফ্রি দেওয়া হবে।
এ অফারটি ছড়িয়ে পড়ার পর আসরের নামাজের পরপরই বিপুলসংখ্যক ক্রেতা মার্কেটে ভিড় করতে শুরু করেন। প্রায় ২০০-এর বেশি মোটরসাইকেলসহ বিপুলসংখ্যক বাইকার এবং সাধারণ ক্রেতা উপস্থিত হন। এতে করে হঠাৎ করেই মার্কেটে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মার্কেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী এবং থানার পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানের মালিক নিজেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘোষণা দেন যে, মগবাজার শাখায় বাইকারদের জন্য ‘এরাবিয়ান ইঞ্জিন অয়েল’ প্রদান বন্ধ রাখা হবে।
এই ঘোষণা প্রকাশের পর উপস্থিত বাইকারদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। তারা দোকানে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং আশপাশের সড়কেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে দোকানের কর্মচারীরা সামনের শাটার বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে কিছু ক্রেতা ও বাইকার দোকানের পেছনের গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। এতে করে মার্কেটের অন্যান্য দোকানদার ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে মার্কেট ত্যাগ করতে বাধ্য হন।