অপহরণের পর ইয়াবা দিয়ে দুই ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ
নোয়াখালী সদর উপজেলায় অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পরে দুই সহোদর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা বড়ি দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একই এলাকার প্রতিপক্ষের নামে মামলা করা হলেও পুলিশ এখনো আসামিদের ধরতে পারেনি, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) জেলা শহর মাইজদীর ইউরো শপিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী দুই সহোদর ভাই হলেন উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর ফরেষ্টার সাহেবের বাড়ির শোয়েব হোসেনের ছেলে মো. ইমদাদুল হক ইমন (২২) ও মো. এহসানুল হক দিহান (২০)।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে অ্যাম্বুলেন্সযোগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সুধারাম থানাধীন পূর্ব বদরীপুর ডিএসপি জামে মসজিদের সামনে থেকে ইমদাদুল হক ইমন ও এহসানুল হক দিহান নামের দুই ভাইকে অপহরণ করা হয়। পরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে তাদের কাছে ইয়াবা বড়ি রেখে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখিয়ে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ সোনাপুর কাঠপট্টি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। পরে অপহরণের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে মাদক ব্যবসার কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে পরিবারের কাছে দুই ভাইকে হস্তান্তর করে পুলিশ।
ভুক্তভোগীদের পরিবার দাবি করেছে, প্রতিপক্ষের লোকজন আধিপত্য বিস্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের হয়রানি করে আসছিল। সর্বশেষ পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। তার এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত আনোয়ারুল ইসলাম হেলাল (৩৫), মো. আবদুল্যাহ প্রকাশ রোমান, মো. সুনাম (৩৫), মো. শাওন ড্রাইভার (৩০), মো. সাদ্দাম হোসেন (১৮) ও মো. মেহেদীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬ জনের নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগীদের বাবা শোয়েব হোসেন বাদী হয়ে গত ৩ মার্চ সুধারাম মডেল থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার ১৩ দিন পার হলেও আসামিদের ধরতে গড়িমসি করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মহি উদ্দিন জানান, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা পর্যালোচনা করে অপহরণের মামলা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িত আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।