১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২৪

ঝিনাইদহে মৃতপ্রায় খাল পুনঃখনন শুরু, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার আশা

খাল পুনঃখনন করছেন শ্রমিকরা  © সংগৃহীত

আশির দশকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খনন করা ঝিনাইদহের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল আবারও পুনরুজ্জীবিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে পড়া এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা এলাকা থেকে হরিণাকুন্ডু উপজেলার কন্যাদহ গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ২ডি-৭এন নামে পরিচিত মৃতপ্রায় খালটির পুনঃখনন কাজ আজ সোমবার উদ্বোধন করবেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিনটি প্যাকেজে মোট ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে খালটির ৫ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানিনিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস জানান, স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনা করে আশির দশকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে খালটির খনন কাজ শুরু করেন। সে সময় খালটির একটি অংশ শিরিষকাঠ খাল নামে পরিচিত ছিল এবং এলাকার কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। নব্বইয়ের দশকে আবারও খনন করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে কার্যকারিতা হারায়।

তিনি আরও বলেন, পুনঃখনন কাজ শেষ হলে দুই উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

খাজুরা গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন জানান, খালটি সচল হলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুকনো মৌসুমে সেচের পানি পাওয়া সহজ হবে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

অন্যদিকে কন্যাদহ গ্রামের কৃষক আজাদ রহমান পান্নু বলেন, একসময় যে খাল কৃষি ও জনজীবনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছিল, পুনঃখননের মাধ্যমে তা আবারও জীবন্ত হয়ে উঠবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শুরু করা সেই উন্নয়ন উদ্যোগ নতুন করে এলাকার কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।