২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৪

আজ থেকে শুরু হলো নির্বাচনী প্রচারণা, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নির্বাচন কমিশন  © সংগৃহীত

নির্বাচনি মাঠে নামার সব প্রস্তুতি শেষ। প্রতীক হাতে পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে ভোটের প্রচার-প্রচারণা। তবে এবারের নির্বাচন আগের চেয়ে আলাদা—পোস্টারহীন প্রচার, ড্রোনে নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়াকড়ি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কী করা যাবে, কী করা যাবে না—এই বিধিনিষেধ মেনেই আগামী ২০ দিন ভোটারদের কাছে যেতে হবে প্রার্থীদের।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে ২৯৮ আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭২ জনে। প্রার্থী সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন দুজন প্রার্থী—বিএনপির আলমগীর হোসেন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী—নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাও বেশি। ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে। দলীয়ভাবে ২ হাজার ৯১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। যে দলগুলো প্রার্থী দেয়নি, তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ফলে প্রার্থীরা এবার মোট ২০ দিন সময় পাচ্ছেন ভোটের প্রচারে।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রচারে পোস্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা যাবে না। বিদেশে কোনো ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ। একজন প্রার্থী তার আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট এবং প্রস্থ ৯ ফুট। ডিজিটাল বিলবোর্ডে আলোর ব্যবহার করা গেলেও আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটে পলিথিনের আবরণ ব্যবহার করা যাবে না; পিভিসি ব্যানারও নিষিদ্ধ। প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট বা সমর্থকেরা প্রচার চালাতে পারবেন, তবে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইলসহ সনাক্তকরণ তথ্য প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনী প্রচারে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভুল তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ, চেহারা বিকৃত করা বা বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর অপরাধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।

এবারের আচরণবিধিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো দল বা প্রার্থী বিদেশে জনসভা বা সভা-সমাবেশ করতে পারবে না। নির্বাচনের দিন ও প্রচারকালীন সময় ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটার স্লিপ বিতরণ করা গেলেও সেখানে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদ বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।

গণমাধ্যমের সংলাপ এবং সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার সুযোগও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা একদিনে সব প্রার্থীকে নিয়ে তাদের ইশতেহার বা ঘোষণাপত্র পাঠের ব্যবস্থা করবেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী বলেন, প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করা।