১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯

ঝড় তুলেছে ‘আরেকটু’, টেইলর সুইফট থেকে অনুপ্রাণিত কে এই ঢাবি ছাত্রী রোদসী

রোদসী ইসফার ফাতেমী  © টিডিসি সম্পাদিত

‘আমায় আরেকটু কি ভালো রাখা যায়, আমায় আরেকটু কি ভালোবাসা যায়’—প্রিয়জনের কাছে আরও একটু ভালোবাসা চাওয়ার আকুতি নিয়ে তৈরি গান ‘আরেকটু’ দিয়ে শ্রোতাদের নজর কেড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী রোদসী ইসফার ফাতেমী। গানটির কথা ও সুর তাঁর নিজের। পপসংগীতের বিশ্ব তারকা টেইলর সুইফটের গান শুনে একসময় নিজের গান লেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। এখন নিজেই গান লেখেন, সুর করেন এবং গান করেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রোদসীর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয় ‘আরেকটু’। আড়াই সপ্তাহে গানটির ভিডিও দেখা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজারবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গানটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন শ্রোতারা।

রোদসীর জন্ম লালমনিরহাটে, বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তার বাবা সংগীতশিল্পী সাজেদ ফাতেমী, মা সুলতানা পারভীন ইয়োগা প্রশিক্ষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

গানটির পেছনের গল্প বলতে গিয়ে গণমাধ্যমকে রোদসী বলেন, ‘প্রিয়জনের কাছে আরও একটু ভালোবাসা চাওয়ার অনুভূতি থেকে গানটি লেখা। তখন আমার মনে হচ্ছিল, মানুষটিকে সরাসরি কথাগুলো বলতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু সরাসরি না বলে নিজের অনুভূতিগুলো গানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। আমার মনে হয়েছিল, যেটুকু চাইছি, সেটুকুই তো আসলে পাওয়ার কথা। তারপরও কেন আরও একটু চাইতে হচ্ছে, সেই অনুভূতি থেকেই গানটি লেখা।’

চার-পাঁচ মাস আগে গানটি লেখার কাজ শুরু করেন রোদসী। পরে এক মাসের মধ্যে শেষ করেন। গানের কথার পাশাপাশি সুরেও নিজের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তিনি।

রোদসীর সংগীতজীবনে বড় প্রভাব মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের। ১৩ বছর বয়সে পত্রিকায় সুইফটের খবর পড়ে জানতে পারেন, তিনি নিজেই গান লেখেন। পরে তাঁর ‘লাভ স্টোরি’ গান শুনে নিজের গান লেখার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন রোদসী।

তিনি বলেন, ‘১৩ বছর বয়সে একদিন পত্রিকায় দেখেছিলাম, একজন নারী শিল্পীর অ্যালবাম সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি নিজেই গান লেখেন। এরপর টেইলর সুইফটের প্রথম গান শুনি। তখন মনে হয়েছিল, আমিও গান লিখতে চাই, নিজের অ্যালবাম বের করতে চাই। তাঁকে আবিষ্কার করার পরই নিজের গান লেখার ইচ্ছাটা তৈরি হয়। আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তিনি।’

শুরুতে ইংরেজিতে গান লিখতেন রোদসী। গিটার বাজিয়ে নিজেই সুর করতেন। ১৭ বছর বয়সে লেখেন তার প্রথম বাংলা গান ‘এই শহরে’। পরে গানটি প্রকাশিত হয় তার প্রথম ইপি ‘সোনালী’তে।

নিজের গান লেখা ও সুর করার পথে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন রোদসী। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সংগীতাঙ্গনে নারীদের বেশির ভাগ সময় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দেখা হয়। গান লেখা ও সুর করার ক্ষেত্রে তাঁদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।

রোদসী বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের সংগীত অনেকটাই পুরুষকেন্দ্রিক। এখানে নারীদের বেশির ভাগ সময় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দেখা হয়। অনেক নারী প্লেব্যাক করেন, কিন্তু নিজেরা গান লেখা বা সুর করার উদাহরণ তুলনামূলকভাবে কম। আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন বাংলাদেশে নিজের গান লেখা ও সুর করা নারী শিল্পীর উদাহরণ খুব বেশি দেখিনি। আন্তর্জাতিক সংগীতের প্রভাব থাকায় আমার কাছে বিষয়টি একটু আলাদা ছিল। তবে চ্যালেঞ্জ এখনো আছে।’

ছোটবেলা থেকেই পপসংগীতের প্রতি আগ্রহ রোদসীর। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে রকসংগীতের প্রভাব বেশি হলেও পপের জন্য আলাদা পরিসর গড়ে তুলতে চান তিনি।

রোদসী বলেন, ‘পপসংগীত আমার সবচেয়ে পছন্দের। ছোটবেলা থেকেই পপ গান বেশি শুনেছি। এই সংগীতের সুর, কথা ও মেলোডির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল খুঁজে পাই। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে রকসংগীতের প্রভাব অনেক বেশি। আমি চাই, মানুষ পপসংগীতের দিকেও আরও মনোযোগী হোক। নতুন শিল্পীদের নিয়ে পপের একটি আলাদা পরিবেশ তৈরি হোক। আমার কাজের মাধ্যমে এই ধারায় কিছু অবদান রাখতে চাই।’

টেইলর সুইফটের পাশাপাশি অলিভিয়া রদ্রিগো ও সাবরিনা কার্পেন্টারের গানও শোনেন রোদসী। আন্তর্জাতিক পপসংগীতের প্রভাব তাঁর নিজের কাজেও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শ্রোতারা তার গানের সঙ্গে অলিভিয়া রদ্রিগোর গানের মিল খুঁজে পেলে সেটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন।

নিজের লেখা, সুর ও কণ্ঠে গান তৈরি করে পপসংগীতে স্বতন্ত্র পরিচয় গড়তে চান রোদসী। ‘আরেকটু’ দিয়ে পাওয়া শ্রোতাদের সাড়া তাঁর সেই যাত্রায় নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।