স্বাস্থ্য খাতের ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনগণের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নে প্রস্তাবনা
বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়—যার বেশিরভাগই রোগীরা বহন করে থাকেন (৭৯%), প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ভার, চিকিৎসক ও জনবলের সংকট এবং সরকারি ক্রয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান দুর্বলতা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিক সমাজ।
এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় কার্যক্রমকে জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের প্রস্তাবনা হল—
১. স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার নিশ্চিত করা: সকল ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ গ্রহণ করতে ই-জিপি, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, প্রকৃত মালিকানা প্রকাশ, বাজারদরের যৌক্তিক যাচাই এবং স্বাধীন নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে কার্য্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
২. প্রয়োজনভিত্তিক ক্রয় নিশ্চিত করা: বেশি দামে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার থেকে হাসপাতালের প্রকৃত চাহিদা, রোগীর সংখ্যা, বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও জনবলের সক্ষমতা যাচাইকরত প্রয়োজনীয় ও টেকসই জিনিস কেনার আহ্বান থাকবে। শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই হবে না; যন্ত্রপাতির সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল, রিএজেন্ট, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারোপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিন।
৩. প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকার দিন: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, জরুরি চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিন ও ব্যয় নিশ্চিত করুন। উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার,ক্যাথল্যাবের থেকে উপরোক্ত বিষয়গুলো বেশি প্রয়োজন এবং সময়োপযোগী।
৪. স্বাস্থ্য শিক্ষার মান বৃদ্ধি: স্বাস্থ্যশিক্ষার মান বাড়াতে এবং গবেষণায় স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিন।
৫. চিকিৎসাব্যয় কমানোতে উদ্যোগ নিন: দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষায় সরকারি সহায়তা বাড়ানোতে ব্যয় নিশ্চিত করুন। বাংলাদেশের মত আর কোন দেশের জনগণ এত বেশি টাকা স্বাস্থ্যের জন্য নিজের পকেট খরচ করে না।
৬. সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা: কার্যকর সামাজিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে জনগণের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুন।
৭. জনবল ও সেবার মান নিশ্চিতকরণ: চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্যপদ পূরণ করতে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নিন। তাদের যৌক্তিক পদায়ন, প্রশিক্ষণ এবং হাসপাতালভিত্তিক জনবল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এই ব্যয় নিশ্চিত করুন।
৮. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: পুরো প্রক্রিয়াতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবী সংগঠনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করত কার্য্যকর পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্য্যকরী উদ্যোগ নিন।
সর্বোপরি, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ১৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় কার্যক্রমকে তখনই সফল বলা যাবে যখন জনগণ সহজে, কম খরচে এবং মানসম্মত চিকিৎসা পাবে। তাই সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান—আসন্ন ক্রয় কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, প্রয়োজনভিত্তিক ব্যয় এবং জনস্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দিন। আমি কিংবা ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ) আপনার পাশে থাকবে।
ডা. মো. আব্দুস সালাম
অফিস সম্পাদক
ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)