বঙ্গভঙ্গ, নবাব সলিমুল্লাহর জীবন বাজি এবং রাজধানী ঢাকার পুনরুত্থান
১৮৬৬ সালে আসামে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হল। এর তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেল, বঙ্গ বিশাল একটি প্রদেশ। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার অধীনে তা সামাল দেওয়া দুষ্কর। এছাড়া পূর্ব-বাংলা এবং আসাম অঞ্চল অন্যান্য এলাকা থেকে তুলনামূলক দুর্গম। ফলে প্রদেশটিকে ছোট করার পরিকল্পনা আসতে থাকে।
মূলত, নবাবি আমল থেকেই বিহার (ঝাড়খণ্ড তখন বিহারের অংশ) ও উড়িষ্যার সমন্বয়ে বাংলা বিশাল একটি প্রদেশে (সুবা) রূপ নিয়েছিল। আর আসাম (সেভেন সিস্টার্সের প্রায় সিংহভাগ এলাকা) ছিল স্বাধীন আহোম রাজ্যের অধীনে। তবে ১৮২৬ সালে ‘ইয়াণ্ডাবু সন্ধি’র মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আসাম দখল করে। এর পর ব্রিটিশরা প্রশাসনিক সুবিধার জন্য পুরো আসাম অঞ্চলকে বিশাল বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি বা বাংলা প্রদেশের সাথে যুক্ত করে দেয়।
এই সুবিশাল এক লক্ষ ১৮ হাজার বর্গ মাইলের এই পুরো এলাকা এক সময় শাসন করতেন একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর। ১৯০৩ নাগাদ যার জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ৮৫ লক্ষে। ফলে পূর্ব বাংলা, আসাম প্রভৃতি এলাকায় শাসন পরিচালনা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। নানান কারণে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজধানী কলকাতা ও এর আশেপাশের জেলা। আর বাকি এলাকাগুলো কলকাতার উপনিবেশ। কলকাতায় বসে আরাম আয়েশ ও সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় মত্ত থাকা জমিদারদের জোরপূর্বক অতিরিক্ত খাজনা ও অত্যাচারে জনজীবন অতিষ্ঠ। এসব এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায়-বাণিজ্য ছিল অবহেলিত। এসব প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি দুর্ভিক্ষ, প্রতিরক্ষা ও ভাষাগত সমস্যাবলির কারণে নতুন করে সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি ইংরেজ সরকারকে ভাবতে হয়। বিশেষ করে আসামের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ এক্ষেত্রে অনেক বেশি অবদান রাখে।
অবশ্য এর আগেই ১৮৩৬ সালে বাংলার উত্তরাঞ্চলের প্রদেশগুলিকে বাংলা থেকে পৃথক করা হয়। ১৮৫৪ সালে বাংলায় গভর্নর জেনারেলের পরিবর্তে জারি হয় লেফটেন্যান্ট গভর্নরের শাসন। আর ১৮৭৪ সালে চিফ কমিশনারশিপ গঠনের প্রক্রিয়া হিসাবে বাংলা থেকে আসামের সীমানা ভাগ করা হয়। এর মধ্যে তখন সিলেটও ছিল। পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে যুক্ত হয় লুসাই পাহাড়।
২০০ বছর পর যেভাবে রাজধানী হলো ঢাকা
উপরে উল্লিখিত নানা উদ্যোগ এবং সংকট সমাধানের ধারাবাহিকতায় সমগ্র বাংলাকে ভেঙে দুইটি প্রদেশ গঠনের পরামর্শ আসে। ১৯০৩-০৪ সালের দিকে এর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে থাকে। এ সময়ে ঢাকার নবাব ছিলেন খাজা সলিমুল্লাহ। এতদিন নিরবে-নিরুপদ্রবে ব্যবসা ও জমিদারি সামাল দিলেও এখন তিনি জড়িয়ে পড়লেন রাজনীতিতে।
অবশ্য সন্ত্রাসবাদীরা যেমন ‘প্রগতিশীল’ আবদার করেন, নবাব সলিমুল্লাহ প্রথমে সেই ধরণের উদ্যোগই নেন। ১৯০৪ সালের ১১ জানুয়ারি তাঁর আমন্ত্রণে আহসান মঞ্জিলে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হিন্দু আর মুসলিমরা ধর্ম নির্বিশেষে উপস্থিত হয়। এখানে ইংরেজ সরকারের বঙ্গবিভাগ পরিকল্পনার ওপর বেশ কিছু বিষয়ে নবাব সলিমুল্লাহ বিরোধিতা করে মত পেশ করেন। বরং ঢাকাকে রাজধানী করে এই প্রদেশ গঠনের প্রস্তাব তিনিই উত্থাপন করেন। পরে ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি ভাইসরয় লর্ড কার্জন নবাব সলিমুল্লাহর আথিতেয়তা গ্রহণ করেন। এর ফলে তাদের পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন সূচিত হয়। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর ঢাকাকে রাজধানী করে ঘোষিত হয় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ।
বঙ্গভঙ্গ সম্পূর্ণত যৌক্তিক একটি উদ্যোগ ছিল। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে প্রথমত প্রশাসনিক জটিলতা লাঘব করা ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ, দ্বিতীয়ত ইতোমধ্যে চিফ কমিশনার শাসিত অনগ্রসর আসামকে বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং তৃতীয়ত উড়িয়া ভাষাভাষীদের একটি প্রশাসনিক অঞ্চলে নিয়ে আসা। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনায় পূর্ববঙ্গ প্রদেশ ছিল না, বরং ছিল আসাম প্রদেশ। যাতে পূর্ব বাংলার ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বৃহত্তর জেলাগুলো যুক্ত থাকবে, থাকবে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন। নবাব সলিমুল্লাহ এই পরিকল্পনারই বিরোধিতা করে ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনের পরামর্শ দেন। আজ এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী।
প্রবল বিরোধিতা, টার্গেটে নবাব
পূর্ববঙ্গ প্রদেশ গঠনের ফলে ঢাকায় রাজধানীই হবে না শুধু, কলকাতার জমিদার বাবুদের এই গরীব প্রজারাও সরকারের সুনজর পাবেন। তাছাড়া দার্জিলিং বাদে চা এবং সমগ্র পাট উৎপাদনকারী এলাকাগুলো পূর্ব বাংলায় পড়ে যাচ্ছে। এসব কিছুই কলকাতার জমিদার শ্রেণি, আইন ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীদের ভাবিয়ে তোলে, কারণ এদের প্রত্যেকের স্বার্থেই আঘাত লাগতে চলেছে। তারা মায়াকান্না জুড়লেন যে ব্রিটিশরা ‘বঙ্গমায়ের অঙ্গহানি’ করছেন। তারা অভিযোগ তুললেন ব্রিটিশরা ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতিতে বাঙালির একক সত্তাকে ভেঙে দিচ্ছেন। যার প্রত্যেকটা অভিযোগই ছিল ফাও, বকওয়াস। আর এদের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসাবে এগিয়ে আসে কংগ্রেস।
অথচ কংগ্রেস ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের সকল ধর্মের মানুষের রাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ তার খোলস ভেঙে কেবলই ‘হিন্দু’ চরিত্র উন্মোচন করে। ফলে মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। এক্ষেত্রেও এগিয়ে আসেন নবাব সলিমুল্লাহ। তাঁর উদ্যোগেই ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে ঘোষণা আসে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠনের। অবশ্য এর আগে নতুন প্রদেশ কার্যকর হওয়ার দিনই, অর্থাৎ ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নর্থব্রুক হলে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ‘মোহামেডান প্রভিনশিয়াল ইউনিয়ন’ গঠন করা হয়। সে সময়ে এটিই মুসলমানদের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখে। ১৯০৬ সালে তিনি গঠন করেন ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতি’। ১৪ ও ১৫ এপ্রিল শাহবাগে অনুষ্ঠিত সমিতির প্রথম সভায় তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছর ‘মুসলিম অল ইনডিয়া কনফেডারেসি’ নামে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক উদ্যোগের পরিকল্পনা নেন। পরে তাঁর আহ্বানে নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সমিতির ২০ তম অধিবেশন বসে শাহবাগে। সেখান থেকেই মুসলিম লীগের ঘোষণা আসে।
কিন্তু ওপারের স্বার্থান্ধরা ততদিনে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেই। ‘বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ’ যেন তাদের জীবন-মরণ সমস্যা। এজন্য তারা বিভিন্ন গোপন আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯০৮-১০ সালে এটি চরম রূপ ধারণ করে। ‘শান্তিপূর্ণ’ থাকাকালেও এটি সাম্প্রদায়িক আন্দোলন ছিল। আর এখন তো কথা-ই নেই। বাংলার ‘বিপ্লবী’ ক্ষুদিরামদের হাতে এই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরাই তুলে দিয়েছিল বোমা।
নবাব সলিমুল্লাহও এই সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হন। ১৯০৭ সালের ৪ মার্চ কুমিল্লায় একটি সভা চলাকালে নবাব সলিমুল্লাহর ওপর গুলি বর্ষণ করা হয়। সে সময় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও একজন শহীদ হয়েছিলেন।
নবাব সলিমুল্লাহ ১৯০৮ সালের মধ্যেই বাংলা ও এর আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম লীগকে সংগঠিত করে তোলেন। একই বছর ৩০-৩১ ডিসেম্বর অমৃতসরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সভায় মুসলিমদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন দাবি করেন তিনি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, নবাব সলিমুল্লাহ শুধু মুসলমানের নেতা ছিলেন না। বরং কংগ্রেস ও হিন্দু জমিদারদের বশংবদদের প্রতিক্রিয়াশীলতা ও সাম্প্রদায়িকতার মুখে নিজ সম্প্রদায়ের কথা তাঁকে ভাবতে হয়েছিল। ১৯০৯ সালের ২১ মার্চ ‘ইম্পেরিয়াল লীগ অব ইস্টার্ন বেঙ্গল অ্যান্ড আসাম’ গঠন করেন তিনি। যে সময়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিক্রিয়াশীল স্বদেশী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন চরমে, ঠিক তখনই পূর্ববঙ্গের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি রক্ষায় এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। এই সংগঠনে উভয় সম্প্রদায়েরই সম্পদশালী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
১৯১১ সালের ১৯ আগস্ট বিদায়ী এবং নবাগত ছোটলাটদ্বয়ের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার দাবি জানান নবাব সলিমুল্লাহ। এরই মধ্যে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করেন কিং জর্জ পঞ্চম। একই সাথে ভারতের রাজধানী কোলকাতা থেকে স্থানান্তর করে দিল্লীতে নেওয়া হয়। ওই সময়ে দিল্লীর দরবারে রাজার সম্মানে রবীন্দ্রনাথের ‘জনগণমন অধিনায়ক জয় হে, ভারতভাগ্য বিধাতা’ গানটি গীত হয়। যদিও এ নিয়ে ভিন্নমতও আছে। বলা হয়, ভারতভাগ্য বিধাতা বলতে ‘ঈশ্বর’কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের অংশ হিসাবেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি।
জীবন বাজি রেখে ঢাবি প্রতিষ্ঠা
পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক মর্যাদা লোপ পাওয়ায় সলিমুল্লাহ মর্মাহত হন। তাৎক্ষণিক তিনি নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেন। ২০ ডিসেম্বর তিনি মুসলিমদের স্বার্থ সংরক্ষণে লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে ৮ দফা দাবি পেশ করেন। লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি সদলবলে গিয়ে পুনরায় বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পেশ করেন। সেদিনই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের জন্য শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। নবাব সলিমুল্লাহর প্রচেষ্টায় ঢাবির পরিকল্পনায় জায়গা পায় ইসলাম শিক্ষা বিভাগ।
কিন্তু এ দাবিও প্রতিক্রিয়াশীলদের সইল না। তারা এমনকি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো দাবিরও বিরোধিতা করতে লাগলেন। যারা আরও অর্ধশত বছর আগে একটি রেনেসাঁ পার করেছেন, এই বিরোধিতা তাদের কাছ থেকেই আসে। ইতিহাসের কী নির্মম নির্লজ্জতা। ১৯১২ সালের ৩-৪ মার্চ কলকাতায় অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের সভায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিরোধিতাকারীদের অপযুক্তি খণ্ডন করেন। এদিন আবারও স্বতন্ত্র নির্বাচনের দাবি তুলে ধরেন এবং চাকরিতে কোটা দাবি করেন।
বিরোধিতার মুখেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত থাকে। এরই মধ্যে ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার চৌরঙ্গীর বাসভবনে নবাব সলিমুল্লাহর ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু হয়। বড় লাটের সঙ্গে ঢাবি প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলেও ঐতিহাসিকদের একটি অংশ দাবি করেন। এ ছাড়া তাকে বিষপানে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।
১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার আহসান মঞ্জিলে জন্মগ্রহণকারী নবাব সলিমুল্লাহ আভিজাত্যের প্রাচীর ডিঙিয়ে মিশে গিয়েছিলেন গণমানুষের কাতারে। ১৯০২ সালে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমান বুয়েট) প্রতিষ্ঠায় পিতার প্রতিশ্রুত ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা মঞ্জুর করা থেকে শুরু করে নারী শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান অতুলনীয়।
বঙ্গভঙ্গ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করে তিনি ঢাকাকে যে নতুন প্রাণ রূপ দিয়েছিলেন, তার ওপর ভর করেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকা প্রতিষ্ঠিত। এক সময় যে অজপাড়া গাঁ ঢাকা, তা আজ বাংলা দেশের প্রাণকেন্দ্র।