জবির আইন বিভাগে ভর্তি: আবেদন থেকে প্রস্তুতি, যা জানা দরকার
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে একটি। এ সময়টাতে শুধু বইয়ের সঙ্গে লড়াই হয় না; লড়াই হয় নিজের ভয়, অনিশ্চয়তা, হতাশা, অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজের তুলনা, পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা এবং সবচেয়ে বড় কথা নিজের ওপর বিশ্বাস ধরে রাখার সঙ্গে।
আর যখন লক্ষ্য হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ, তখন প্রতিযোগিতার মাত্রাটাও ভালোভাবে বুঝতে হয়। কারণ এখানে শুধু ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেই আইন বিভাগ নিশ্চিত নয়; নির্দিষ্ট যোগ্যতা, ভর্তি পরীক্ষার ফল, একাডেমিক ফলাফল, মেধাক্রম, আসনসংখ্যা এবং বিষয় পছন্দক্রম সবকিছু মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত বিষয় পাওয়া নির্ধারিত হয়।
তাই এই লেখা শুধু জবি আইন বিভাগ কোন ইউনিটে? এ প্রশ্নের উত্তর নয়। বরং কোন ইউনিট, কী যোগ্যতা, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, কীভাবে পড়া মনে রাখতে হবে, কীভাবে রিভিশন দিতে হবে, মডেল টেস্ট কীভাবে দিতে হবে, পরীক্ষার হলে কীভাবে সময় ভাগ করতে হবে এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির সময়ে মানসিকভাবে কীভাবে নিজেকে ধরে রাখতে হবে সবকিছুকে একসঙ্গে দেখার চেষ্টা।
প্রথমেই জানা দরকার জবির আইন বিভাগ কোন ইউনিটে?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ইউনিট বি, অর্থাৎ কলা ও আইন অনুষদের অধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ভর্তি কার্যক্রমেও ইউনিট বি কে কলা ও আইন অনুষদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক ধাপে বিষয়প্রাপ্তি ও ভর্তি কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে। অর্থাৎ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়তে চাইলে মূল প্রতিযোগিতার জায়গা ইউনিট বি।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউনিট বি কেবল মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। সর্বশেষ প্রকাশিত ভর্তি কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষাশাখার শিক্ষার্থীদের জন্য এ ইউনিটে আবেদনের সুযোগ ছিল। ফলে বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা থেকেও একজন শিক্ষার্থী আইন পড়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন। তবে বিভাগভেদে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।
আইন বিভাগ আর আইন ও ভূমি প্রশাসন এক নয়
অনেক শিক্ষার্থী বিষয় দুটিকে একই মনে করেন। বাস্তবে এগুলো পৃথক বিভাগ। সর্বশেষ যাচাইযোগ্য আসনবিন্যাস অনুযায়ী, ইউনিট বি তে আইন বিভাগে ৮০টি আসন এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে ৬০টি আসন রয়েছে। আইন বিভাগের আসন শাখাভিত্তিকভাবে মানবিক ৩০, বিজ্ঞান ৩০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা ২০টি। অন্যদিকে আইন না ভূমি প্রশাসন বিভাগে মানবিক ৪০, বিজ্ঞান ১০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা ১০টি আসন রয়েছে।
তবে আসনসংখ্যা প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নতুন শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সেটিকেই চূড়ান্ত হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।
শুধু আবেদন করতে পারলেই আইন পাওয়া যায় না
ভর্তি-প্রস্তুতির শুরুতেই সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো শিক্ষার্থী শুধু নিজের ইউনিটে আবেদন করার যোগ্যতা দেখেন, কিন্তু যে বিভাগটি চান, সেটির বিশেষ যোগ্যতা যাচাই করেন না।
আইন বিভাগের মতো নির্দিষ্ট কিছু বিভাগে বিষয়ভিত্তিক গ্রেডের শর্ত থাকতে পারে। বিভিন্ন প্রকাশিত ভর্তি-তথ্যে আইন বিভাগের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজিতে নির্দিষ্ট গ্রেডের শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আগের বছরের শর্তকে নতুন বছরের চূড়ান্ত শর্ত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীর প্রথম কাজ হওয়া উচিত আমি ইউনিট বি তে আবেদন করতে পারব কি না এবং আমি আইন বিভাগে বিষয় পাওয়ার জন্য যোগ্য কি না দুটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা।
পরীক্ষার কাঠামো বুঝে প্রস্তুতির ধরন
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কাঠামো অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ, বি, সি, ডি ইউনিটে এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৭২ নম্বর ছিল। প্রতিটি বিষয়ের জন্য ২৪ নম্বর করে বরাদ্দ ছিল। পরীক্ষার সময় ছিল এক ঘণ্টা। প্রতিটি সঠিক উত্তরের মূল্য ০.৭৫ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তনের নিয়ম ছিল।
চূড়ান্ত মেধাস্কোরে ভর্তি পরীক্ষার ৭২ নম্বরের পাশাপাশি এসএসসি/সমমান থেকে ১০ এবং এইচএসসি/সমমান থেকে ১৮। মোট ১০০ নম্বরের কাঠামোও সর্বশেষ ভর্তি প্রক্রিয়ায় ছিল।
এখান থেকে একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে ভর্তি পরীক্ষায় ৭২ নম্বরের প্রতিটি নম্বর গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু ভর্তি পরীক্ষাই পুরো গল্প নয়। একাডেমিক ফলাফলও চূড়ান্ত মেধাক্রমে ভূমিকা রাখে।
আরও দেখুন: যশোর শিক্ষাবোর্ডে একাদশে ভর্তিতে বিশেষ কোটায় মনোনীত ১৫ জন
কেন জবি আইন এত প্রতিযোগিতামূলক?
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ইউনিট বি তে ৭৯ হাজার ৭৯৬টি আবেদন জমা পড়েছিল বলে জানিয়েছে কলা ও আইন ডীন অফিস। একই ভর্তি প্রক্রিয়ায় ইউনিট বি তে আসনপ্রতি আবেদনকারীর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
এখানেই শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বুঝতে হবে। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী শুধু পাশের বেঞ্চের বন্ধু নয়। একই পরীক্ষাকক্ষে এমন শিক্ষার্থী থাকবে, যে হয়তো এক বছর ধরে শুধু এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেউ কোচিং করছে, কেউ আবার নিজের মতো করে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পড়ছে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত আমি কত নম্বর পেলে পাস করব? এমনটা নয়; বরং আমি কীভাবে অন্যদের চেয়ে ভালো স্কোর করব?
বাংলা
শুধু সাহিত্য নয়, ভাষার ভিতও শক্ত করতে হবে।
বাংলা অংশকে অনেকেই সহজ মনে করে অবহেলা করেন। পরে পরীক্ষার হলে বুঝতে পারেন, পরিচিত প্রশ্নের মধ্যেও বিভ্রান্তিকর অপশন থাকে।
বাংলা প্রস্তুতিতে দুটি বড় অংশ রাখতে হবে ব্যাকরণ ও সাহিত্য।
ব্যাকরণ অংশে শুদ্ধ বানান, শুদ্ধ প্রয়োগ, সন্ধি, সমাস, কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, প্রত্যয়, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ এবং বাক্যশুদ্ধির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।
সাহিত্য অংশে কবি-সাহিত্যিক, সাহিত্যকর্ম, চরিত্র, উপাধি, সাহিত্যযুগ, গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
তবে শুধু পড়লেই হবে না। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০টি বাংলা এমসিকিউ সমাধান করা যেতে পারে। ভুল প্রশ্নগুলো আলাদা খাতায় লিখে রাখলে পরবর্তী সময়ে রিভিশন দেওয়া সহজ হবে।
ইংরেজি
আইন পড়তে চাইলে এখন থেকেই গুরুত্ব দেবেন।
প্রস্তুতিতে পার্টস অব স্পিচ, টেন্স, সাবজেক্ট-ভার্ব অ্যাগ্রিমেন্ট, রাইট ফর্ম অব ভার্ব, প্রিপোজিশন, ভয়েস, ন্যারেশন, সেন্টেন্স কারেকশন, সিনোনিম, অ্যান্টোনিম, ইডিয়ম অ্যান্ড ফ্রেজ, স্পেলিং, ভোকাবুলারি, রিডিং কমপ্রিহেনশন এর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিদিন ১০-১৫টি নতুন শব্দ মুখস্থ করলেই হবে না; আগের শব্দগুলোও নিয়মিত ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ নতুন শব্দ শেখা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, পুরোনো শব্দ ভুলে না যাওয়াও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ জ্ঞান
মুখস্থের পাহাড় না বানানোই উত্তম।
সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শিক্ষার্থী হাজার হাজার তথ্য পড়ে, কিন্তু পরীক্ষার দিন প্রয়োজনীয় তথ্যটি মনে থাকে না।
তাই সাধারণ জ্ঞানকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন: বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ও সাম্প্রতিক ঘটনা।
বাংলাদেশ অংশে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সংবিধানের মৌলিক বিষয়, ভূগোল, অর্থনীতি, প্রশাসন, সংস্কৃতি ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রস্তুতি নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক অংশে জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সদর দপ্তর, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, দেশ-রাজধানী-মুদ্রা, আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ঘটনা পড়তে হবে।
সাম্প্রতিক অংশে দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, খেলাধুলা এবং অন্যান্য আলোচিত ঘটনা সম্পর্কে আপডেট থাকতে হবে।
তবে একটি ভুল এড়িয়ে চলতে হবে। শুধু সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান পড়লে হবে না। ভিত্তিমূলক স্থায়ী সাধারণ জ্ঞান এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দুটিই সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।
পড়ি, কিন্তু মনে থাকে না—সমস্যাটা কোথায়?
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো পড়ি, কিন্তু কয়েকদিন পর সব ভুলে যাই।
এটা অস্বাভাবিক নয়। নতুন তথ্য বারবার সক্রিয়ভাবে মনে করার অনুশীলন না করলে তা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সমাধান শুধু আরও বেশি বই পড়া নয়; বরং সঠিকভাবে পুনরাবৃত্তি করা। মনে করেন, আজ আপনি ৫০টি নতুন তথ্য পড়লেন। সেদিন রাতেই ১০ মিনিট বই বন্ধ রেখে মনে করার চেষ্টা করেন যে কী কী পড়েছেন?
এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম রিভিশন, তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়, সাত দিনের মধ্যে তৃতীয় এবং ১৫ দিনের মধ্যে চতুর্থ রিভিশন দিতে পারেন। পরীক্ষার আগে আবার পুরো বিষয়টি ঝালিয়ে নিতে হবে। এভাবে একই তথ্য বারবার মস্তিষ্কে ফিরিয়ে আনলে মনে রাখার সম্ভাবনা বাড়ে।
রিভিশন মানে আবার বই পড়া নয়
অনেক শিক্ষার্থী রিভিশনের নামে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বই আবার পড়েন। এতে সময় বেশি লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করা যায় না।
রিভিশনের সময় নিজেকে প্রশ্ন করেন বই না দেখে আমি কতটা বলতে পারি?
এটিই অ্যাকটিভ রিকলের মূল ধারণা। উদাহরণ হিসেবে, আপনি যদি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার পড়েন, তাহলে বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করেন মৌলিক অধিকার কী? কোন অংশে আছে? কোন কোন বিষয় মনে আছে? কোন অনুচ্ছেদগুলো গুরুত্বপূর্ণ? কোন তথ্য বারবার ভুল হচ্ছে?
যেটা মনে পড়ছে না, শুধু সেটুকু আবার পড়েন। এভাবে রিভিশন করলে একই সময়ে বেশি তথ্য ঝালিয়ে নেওয়া সম্ভব।
একটি ভুলের খাতাও বানিয়ে নিতে পারেন। ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে মূল্যবান খাতা হতে পারে আপনার ভুলের খাতা।
এখানে নতুন কিছু লেখার প্রয়োজন নেই। শুধু যেসব প্রশ্ন ভুল হয়েছে, সেগুলো লিখে রাখুন। চাইলে চারটি কলাম করতে পারেন প্রশ্ন, আপনার উত্তর, সঠিক উত্তর এবং কেন ভুল হয়েছিল।
এক সপ্তাহ পর খাতাটি খুললে দেখবেন, একই ধরনের ভুল বারবার হচ্ছে কি না। তখন নিজের দুর্বল জায়গাগুলো সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন।
পরীক্ষার আগের দিন পুরো বই পড়ার চেয়ে এই ভুলের খাতা বারবার দেখা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।
তিনটি খাতা রাখলে প্রস্তুতি আরও গোছানো হবে
প্রথমটি হবে মূল নোটের খাতা। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সূত্র ও তথ্য থাকবে।
দ্বিতীয়টি হবে ভুলের খাতা। এখানে শুধু ভুল প্রশ্ন ও ভুলের কারণ থাকবে।
তৃতীয়টি হবে শেষ মুহূর্তের খাতা। পরীক্ষার আগে দ্রুত দেখে নেওয়ার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো এখানে থাকবে।
তবে শেষ মুহূর্তের খাতাটি খুব বড় করবে না। যত সংক্ষিপ্ত হবে, শেষ সময়ে তত দ্রুত রিভিশন দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিদিন কত ঘণ্টা পড়বেন?
এখানে একটি ভুল ধারণা ভাঙা দরকার ১০-১২ ঘণ্টা বইয়ের সামনে বসে থাকা মানেই ১০-১২ ঘণ্টা পড়া নয়।
কেউ ছয় ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়ে ১০ ঘণ্টা বসে থাকা একজনের চেয়েও বেশি কার্যকর প্রস্তুতি নিতে পারে। আবার কেউ ১২ ঘণ্টা টেবিলে বসে থেকেও মোবাইল, ঘুম, গল্প ও অপ্রয়োজনীয় বিরতিতে বড় একটি সময় নষ্ট করতে পারে।
তাই সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইফেক্টিভ স্টাডি আওয়ার্স বা কার্যকর পড়ার সময়।
একটি বাস্তবসম্মত দৈনিক পরিকল্পনা হতে পারে বাংলা এক ঘণ্টা, ইংরেজি এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট, সাধারণ জ্ঞান এক ঘণ্টা, এমসিকিউ ও বিগত প্রশ্ন এক ঘণ্টা এবং ভুল বিশ্লেষণ ও রিভিশন এক ঘণ্টা। অর্থাৎ মোট প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা কার্যকর পড়াশোনা। যার সময় ও সক্ষমতা বেশি, সে ধীরে ধীরে এই সময় বাড়াতে পারে।
ছয় ঘণ্টা পড়লে কীভাবে পড়বেন?
একটানা ছয় ঘণ্টা পড়ার প্রয়োজন নেই। বরং ৫০ মিনিট পড়া ও ১০ মিনিট বিরতি অথবা ৬০ মিনিট পড়া ও ১০-১৫ মিনিট বিরতির মতো চক্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে বিরতির সময় ফোন হাতে নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ১০ মিনিটের বিরতি কখন ৪০ মিনিটের স্ক্রলিং হয়ে যায়, তা অনেক সময় বোঝাই যায় না।
মোবাইল কি নীরব শত্রু?
ভর্তি প্রস্তুতির সময় সবচেয়ে বড় বাধা অনেক সময় বই নয়, মোবাইল। একটু ফেসবুক দেখি, একটা রিল দেখি, একটা ইউটিউব ভিডিও দেখি কিংবা একটু মেসেঞ্জার দেখি, এই একটুগুলো মিলেই দিনের কয়েক ঘণ্টা নিয়ে নিতে পারে।
তাই পড়ার সময় ফোন নিরব করে দূরে রাখা ভালো। প্রয়োজনে অ্যাপ টাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মোবাইল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষামূলক কনটেন্টও অনলাইনে পাওয়া যায়।
নীতি হওয়া উচিত মোবাইলকে আপনি ব্যবহার করবেন; মোবাইল যেন আপনাকে ব্যবহার না করে।
বিগত প্রশ্ন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিগত প্রশ্ন শুধু প্রশ্নের উত্তর শেখায় না; পরীক্ষার ভাষাও শেখায়।
এতে বোঝা যায় কোন ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে, কোন অধ্যায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, প্রশ্নের অপশন কীভাবে সাজানো হয়, কোন জায়গায় বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়, নিজের সময় ব্যবস্থাপনা কেমন এবং কোন বিষয়ে দুর্বলতা বেশি।
তাই বিগত প্রশ্ন শুধু পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে নয়; প্রস্তুতির শুরু থেকেই সমাধান করা উচিত।
মডেল টেস্ট কীভাবে দেবে?
প্রথম দিকে সপ্তাহে একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দেওয়া যেতে পারে। প্রস্তুতি এগিয়ে গেলে সপ্তাহে দুইটি, এরপর তিনটি এবং পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ে তিন থেকে চারটি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দেওয়া যেতে পারে।
তবে মডেল টেস্ট দেওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বিশ্লেষণ।
মনে করেন, একটি পরীক্ষায় আপনি ৭০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছ। আপনার কাজ শুধু স্কোর দেখা নয়। দেখতে হবে কতটি সঠিক, কতটি ভুল, কতটি না জানা ছিল, কতটি জানলেও ভুল হয়েছে, কতটি সময়ের অভাবে হয়নি এবং কতটি অসাবধানতায় ভুল হয়েছে। এই বিশ্লেষণই আপনাকে উন্নত করবে।
পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা
এক ঘণ্টায় তিনটি বিষয় সামলাতে হলে পরীক্ষার আগেই নিজের কৌশল ঠিক করে যাওয়া ভালো।
প্রথমে যেসব প্রশ্ন নিশ্চিতভাবে জানা, সেগুলো দ্রুত উত্তর করা যেতে পারে। এরপর মাঝারি ধরনের প্রশ্ন এবং সবশেষে সন্দেহজনক প্রশ্নে যাওয়া যায়।
নেগেটিভ মার্কিং থাকলে শুধু সব প্রশ্নের উত্তর করব এমন মানসিকতা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সঠিক উত্তরের জন্য নম্বর পাওয়া গেলেও ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা যায়। তাই প্রশ্ন নির্বাচনও পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে কতটি প্রশ্নের উত্তর করা নিরাপদ এর কোনো সার্বজনীন সংখ্যা নেই। নিজের মডেল টেস্টের ফল, আত্মবিশ্বাস এবং প্রশ্নের কঠিনতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা। ভর্তি পরীক্ষার সময়ে একটি দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। বন্ধু বলছে, আজ ১২ ঘণ্টা পড়েছি। আর আপনি ভাবছেন, আমি তো মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পড়েছি!
আরেকজন বলছে, আমার পুরো জিকে শেষ। তখন আপনার মনে হতে পারে, আমার তো অর্ধেকও হয়নি।
এভাবে অন্যের পড়াশোনা নিজের আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করে দিতে পারে।
মনে রাখবেন আপনার প্রতিযোগিতা অন্যের ফেসবুক স্টোরির সঙ্গে নয়; আপনার প্রতিযোগিতা গতকালের নিজের সঙ্গে।
গতকাল যদি ৫০টি এমসিকিউ করতে, আজ ৭০টি করেন। গতকাল যদি ৩০টি শব্দ মনে রাখতেন, আজ ৪০টি মনে রাখার চেষ্টা করেন। গত সপ্তাহে একটি মডেল টেস্টে ৪৫ পেলে পরের সপ্তাহে ৫০ পাওয়ার চেষ্টা করেন। এটাই উন্নতি।
আমি পড়ছি, কিন্তু আমার দ্বারা হবে না এই ভয়টা স্বাভাবিক
ভর্তি পরীক্ষার কয়েক মাসে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কেউ ভাবে, আমার প্রস্তুতি অনেক পিছিয়ে। কেউ ভাবে, অন্যরা আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে। কেউ আবার একটি মডেল টেস্টে খারাপ নম্বর পেয়ে ধরে নেয়, আমার হবে না। এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল।
একটি মডেল টেস্টের নম্বর তোমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। মডেল টেস্টের কাজ তোমাকে বিচার করা নয়; তোমার দুর্বলতা দেখানো।
আজ ৪০ পেয়েছন? সমস্যা নেই। এখন প্রশ্ন হলো কেন ৪০? কোথায় ভুল হয়েছে? ভুলগুলো ঠিক করো। পরেরবার ৪৮ পাওয়ার চেষ্টা করো। এরপর ৫৫। এভাবেই প্রস্তুতি তৈরি হয়। সবাই একই গতিতে শেখে না
কেউ প্রথমবার পড়েই মনে রাখতে পারে, কেউ তিনবার পড়ে, আবার কেউ পাঁচবার পড়ে। এতে সমস্যা নেই।
ধীরে শেখা মানে দুর্বল হওয়া নয়
আপনি যদি একটি বিষয় পাঁচবার পড়ে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেন, সেটাই সফলতা। অন্যের সঙ্গে নিজের শেখার গতি তুলনা করা বন্ধ করেন। পড়া শেষ করার চেয়ে পুনরাবৃত্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী বলে, আমার সিলেবাস শেষ। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করা হয়, গত মাসে যা পড়েছিলে, কতটা মনে আছে? উত্তর আসে, অনেকটাই ভুলে গেছি। কারণ সিলেবাস শেষ করা এবং সিলেবাস আয়ত্ত করা এক বিষয় নয়।
তাই প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে নতুন বই, নতুন নোট বা নতুন পিডিএফের পেছনে ছুটে বেড়ানোর পরিবর্তে পুরোনো পড়া বারবার ঝালিয়ে নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ ৩০ দিনের কৌশল
পরীক্ষার এক মাস আগে নতুন কিছু শেখার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রিভিশন, এমসিকিউ, মক টেস্ট, ইরর অ্যানালাইসিস। প্রথম ১০ দিন সিলেবাসের দুর্বল অধ্যায়গুলো পুনরায় পড়েন। পরের ১০ দিন বিগত প্রশ্ন ও মডেল টেস্টের সংখ্যা বাড়ান। শেষ ১০ দিন নতুন পড়া কমিয়ে রিভিশন, ভুলের খাতা এবং পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষায় বেশি গুরুত্ব দেন।
শেষ কয়েক দিনে এমন কোনো বিশাল নতুন বই শুরু করবেন না, যা আপনার আত্মবিশ্বাস আরও কমিয়ে দিতে পারে।
পরীক্ষার আগের রাত
পরীক্ষার আগের রাত পুরো রাত জেগে পড়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যা পড়েছেন, সেটুকু রিভিশন দেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রবেশপত্র ও পরীক্ষাকেন্দ্রের তথ্য আগে থেকে নিশ্চিত করেন। পর্যাপ্ত ঘুমান।
কারণ পরীক্ষার হলে জ্ঞান যতটা দরকার, সতেজ মস্তিষ্কও ততটাই দরকার।
পরীক্ষার দিন
পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে অন্যের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করে নিজের মাথা নষ্ট করবেন না। কেউ হয়তো বলবে, এই অধ্যায় পড়েছেন? আপনি পড়েননি। তখন হঠাৎ মনে হতে পারে আপনি হয়তো কিছুই জানেন না। এটি পরীক্ষার আগে তৈরি হওয়া মানসিক চাপের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই পরীক্ষার আগে নিজের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রাখবেন।
প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর প্রথমে নির্দেশনা ভালোভাবে পড়েন। সময় হিসাব করবেন। সহজ প্রশ্ন আগে, সন্দেহজনক প্রশ্ন পরে। নেগেটিভ মার্কিংয়ের বিষয়টি মাথায় রাখবেন। আর একটি প্রশ্ন ভুল হলেই মনে করবেন না যে পরীক্ষা শেষ।
একটি প্রশ্ন আপনার পরীক্ষা নয়; পুরো পরীক্ষাটাই আপনার পরীক্ষা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘুম, খাবার ও শরীর
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় অনেকেই মনে করেন, ঘুম কমিয়ে পড়লেই বেশি সফল হওয়া যাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস উল্টো ফল দিতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সামান্য হাঁটাচলাকে পড়াশোনার শত্রু ভাববেন না। এগুলো দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক।
পরিবার ও অভিভাবকদের প্রতিও একটি অনুরোধ
একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীর ওপর শুধু পরীক্ষার চাপ থাকে না। অনেক পরিবারে প্রতিদিন প্রশ্ন আসে কতদূর পড়া হলো?, কত নম্বর পেলেন?, অমুকের ছেলে এত পড়ছে, আপনার কী হবে?
এই কথাগুলো অনেক সময় উৎসাহের বদলে ভয় তৈরি করে। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং বাস্তবসম্মত উৎসাহ। একটি খারাপ মডেল টেস্টের পর তাকে ব্যর্থ বলা নয়; বরং জিজ্ঞেস করা উচিত কোথায় ভুল হয়েছে? এবার সেটা কীভাবে ঠিক করবেন?’
শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ কথাটি
আপনি হয়তো এখনো সব শেষ করতে পারেননি। হয়তো অনেক পড়া ভুলে গেছেন। হয়তো আপনার বন্ধু আপনার থেকে এগিয়ে। হয়তো কোনো মডেল টেস্টে খুব খারাপ করেছেন। হয়তো মনে হচ্ছে সময় কমে যাচ্ছে। তবুও থেমে যাবেন না।
কারণ ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি এমন একটি পথ, যেখানে প্রতিদিনের ছোট ছোট উন্নতিই শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধান তৈরি করে।
আজ পাঁচ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়া, কাল পাঁচ ঘণ্টা আরও ভালোভাবে পড়া; আজকের ভুল কাল সংশোধন করা; আজ যে তথ্য ভুলে গেছেন, আগামীকাল আবার মনে করবেন এই ছোট কাজগুলোই শেষ দিনে আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে দিতে পারে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শুধু একটি আসন নয়, একটি লক্ষ্য। আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখা সহজ। কিন্তু সেই স্বপ্নের জন্য প্রতিদিন বসে পড়া কঠিন। কারণ স্বপ্নের পথে শুধু ভালো দিন থাকে না। এমন দিনও আসে, যখন পড়তে ইচ্ছে করে না, কিছু মনে থাকে না, মডেল টেস্ট খারাপ হয়, অন্যের সাফল্য দেখে নিজের ওপর সন্দেহ হয়। সেই দিনগুলোতেই আসল পরীক্ষা।
আপনি যদি সেদিনও বই খুলে বসতে পারেন, ভুল প্রশ্নের খাতা খুলে আবার পড়তে পারেন এবং আগের দিনের ব্যর্থতাকে পরের দিনের পরিকল্পনায় পরিণত করতে পারেন তাহলে আপনি ইতিমধ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আসন সীমিত। প্রতিযোগিতা কঠিন। সর্বশেষ ভর্তি প্রক্রিয়ায় ইউনিট বিতে প্রায় ৮০ হাজার আবেদন পড়েছিল যা প্রতিযোগিতার মাত্রা বোঝার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু কঠিন প্রতিযোগিতা মানেই অসম্ভব নয়।
সঠিক তথ্য, ধারাবাহিক পড়াশোনা, কার্যকর রিভিশন, নিয়মিত এমসিকিউ, মডেল টেস্ট, ভুল বিশ্লেষণ এবং মানসিক দৃঢ়তা এই সমন্বয়ই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
আর একটি কথা সবসময় মনে রাখবেন ভর্তি পরীক্ষায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। কিন্তু নিজের লক্ষ্যকে সম্মান করে আপনি যেভাবে লড়াই করবেন, সেই অভ্যাসই ভবিষ্যতে আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে। তুলনা না করে। হাল ছেড়ে না দিয়ে। আজকের কাজ আজই করবেন। স্বপ্ন যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন হয়, তাহলে স্বপ্নটাকে শুধু মনে না রেখে প্রতিদিনের পড়াশোনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যান।
জাহাঙ্গীর আলম
আইন বিভাগ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়