১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২০

আদম (আ.)-ই কি প্রথম মানুষ? কুরআন কী বলে?

লেখক জুবাইর আহমেদ  © টিডিসি সম্পাদিত

এই পৃথিবীতে একসময় ছিল জিনদের বসবাস। জিন জাতি আল্লাহর নাফারমানিতে লিপ্ত হয় এবং বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত ঘটাতে থাকলে আল্লাহ তাআলা জিনদের স্থলে মানব জাতিকে খলিফা হিসেবে প্রেরণ করেন। আল্লাহর ইবাদত পালন ও আল্লাহর বিধানাবলি মেনে চলাই হলো মানুষের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু শয়তান মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে রাখার চেষ্টায় নিমজ্জিত। শয়তানের প্ররোচনা উপেক্ষা করে আল্লাহর একত্ববাদের পথে টিকে থেকে সৎকর্ম সম্পাদন করলে তাদের জন্য রয়েছে আখেরাতে মহাপুরস্কার। আবার যারা আল্লাহর হুকুমের ব্যত্যয় করবে তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। দুনিয়ার ভোগ বিলাসিতায় মত্ত হয়ে শয়তানের কুমন্ত্রণায় মানুষ যেন চরম সত্য পথ ভুলে না যায় সেজন্য যুগে যুগে বিভিন্ন নবিদের প্রেরণ করেছেন।

প্রথম মানুষ হিসেবে আল্লাহ যাকে সৃষ্টি করেছিলেন এবং পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিলেন তিনি হলেন হজরত আদম (আ.)। তাঁর থেকেই তাঁর সহধর্মিণী হজরত হাওয়া (আ.) কে সৃষ্টি করেছিলেন। আদম(আ.) ছিলেন প্রথম মানব একই সাথে প্রথম নবি। অর্থাৎ প্রথম মানব নিজেই নবি হওয়ায় তার পরবর্তী বংশধরদের আল্লাহর একত্ববাদের পথে চলার আহ্বান করেছেন। আদম ও হাওয়া (আ.) থেকে সমগ্র মানবজাতির বিস্তার ঘটেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একটি আত্মা থেকে সৃষ্টি করেছেন, এবং তা থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন। (সুরা আন নিসা: ১)

কুরআনে বর্ণিত একটি নাফস বা আত্মা বলতে আদম (আ.) কে বুঝানো হয়েছে। রাসুল (স.) এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম সমাজে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা যে আদম (আ.) হলেন প্রথম মানব। উপরন্তু কুরআনে বর্ণিত একটি নফস এর ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাফসিরকারকগণ এবং সহিহ সিত্তাহর হাদিসে আদম (আ.) কে নির্দেশ করা হয়েছে। সুপ্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্বাসের বিপরীতে সময়ে সময়ে কিছু মানুষ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফরমে বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ নানা যুক্তি তর্কের অবতারণা করে সাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টায় তৎপর। তাদের দাবি অনুযায়ী আদম (আ.) এর পূর্বে আরো মানুষ ছিল। তিনি প্রথম মানব নন বরং প্রথম নবি।

বিরুদ্ধবাদীদের মতে, পবিত্র কুরআনে প্রথম মানব হিসেবে আদম (আ.) এর নাম উল্লিখিত নেই, বরং চারটি স্থানে একটি নাফস থেকে মানুষ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। সুতরাং নাফস বা আত্মাটি কার তা সুস্পষ্ট নয়। অথচ আমরা এই আত্মার পরিচয় কুরআনের অন্যত্র আমরা খুঁজে পাই। পবিত্র কুরআনের সুরা সাদ এর ৭১-৭৭ আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলার মানুষ সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাদের নিকট মানব সৃষ্টি বিষয়ক ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এরপর আল্লাহ বলেছেন তিনি মাটি দ্বারা মানুষকে সৃষ্টি করবেন এবং তাকে সুন্দর আকৃতি প্রদান করবেন, জীবন দান করবেন। এরপর ফেরেশতারা যেন তাকে সিজদা করে। অত:পর ফেরেশতারা তাকে সিজদা করল কিন্তু ইবলিস সিজদা করতে অস্বীকার করল। সে তার সৃষ্টিগত শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে অহংকার করল। আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

সুরা আল বাকারায় একইরূপ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টির ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। ফেরেশতারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করলে আল্লাহর বলেন, আমি তোমাদের চেয়ে বেশি অবগত। এরপর আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তাকে সকল বিষয়ে শিক্ষা দান করলেন এবং ফেরেশতাগণকে আদমকে সিজদা করতে বলেন, সমস্ত ফেরেশতারা সিজদা করলেও ইবলিস আদমকে সেজদা করতে অস্বীকার করে, অহংকার করে এবং অভিশপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ( সূরা আল বাকারা ৩০-৩৪)

সুরা সাদের বর্ণনা ও সুরা বাকার বর্ণনায় ঘটনার সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। সুরা সাদের বর্ণনায় যাকে সিজদা করতে বলা হয়েছিল তার নাম উল্লেখ না থাকলেও সুরা বাকারায় তার পরিচয় আদম উল্লিখিত হয়েছে।

হাদিস হলো কুরআনের উত্তম ব্যাখ্যা। সহিহ বুখারিতে উল্লিখিত হয়েছে, কেয়ামতের দিন মানুষ আল্লাহর নিকট তাদের পক্ষে একজন সুপারিশকারী খুঁজবে। তখন কিছু লোক বলবে তোমাদের সবার পিতা আদম (আ.) আছেন। অত:পর তারা তাঁর নিকট আসবে এবং তাকে বলবে হে আদম! আপনি মানব জাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে তৈরি করেছেন এবং তার পক্ষ হতে রুহ (প্রাণ) আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন। আপনাকে সেজদা করতে ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ফেরেশতারা আপনাকে সেজদা করেছে। আপনাকে জান্নাতে বাস করতে দেয়া হয়েছিল। আপনি কি আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন না? (বুখারি : হাদিস-৩১) 

আরো একাধিক হাদিসে এই ঘটনা উল্লিখিত হয়েছে যেখানে আল্লাহ প্রথম যে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাকে আদম (আ.) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

বিরুদ্ধবাদীরা পবিত্র কোরানের সুরা আল আরাফের ১১ নং আয়াতকে উদ্ধৃত করে বলে, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমরা তোমাদের সৃষ্টি করলাম, এরপর তোমাদের আকৃতি প্রদান করলাম। তারপর ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সেজদা কর। তখন সবাই সেজদা করেছে কিন্তু ইবলিস সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো না।’ আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা তোমাদের সৃষ্টি করলাম বলেছেন। অর্থাৎ বহুবচন শব্দ ব্যবহার করে কেবল আদমকে বোঝাননি বরং অনেক মানুষকে সৃষ্টির কথা বলেছেন। সুতরাং আদম প্রথম মানুষ নন। কিন্তু আমরা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের ভাষারীতি ও ভাষাশৈলী পর্যবেক্ষণ করলে দেখব আরবি ভাষারীতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্মান, মহিমা ইত্যাদি প্রকাশে ক্ষেত্রে একজনের জন্যও বহুবচন শব্দ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে জাতির মূল ব্যক্তিকে বোঝাতে পুরো জাতিকে উল্লেখ করা হয়, মূল ব্যক্তি বোঝাতে বংশধরদের বহুবচন ব্যবহার করা হয়। যেমন পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্র বিদীর্ণ করলাম’ ( সুরা আল বাকারা: ৫০)। এখানে তোমাদের বলতে সম্বোধিত ইহুদিদের না বুঝিয়ে তাদের পূর্বপুরুষদের বোঝানো হয়েছে। 

অন্যদিকে, সুরা আরাফের আয়াতটির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় আল্লাহ বলছেন যখন আমরা সৃষ্টি করলাম। এখানে আল্লাহ তাআলা তার নিজের ক্ষেত্রে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহর বহুবচন হওয়া অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে নিজের কর্তৃত্ব প্রকাশের ক্ষেত্রে বহুবচন ব্যবহার করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমরা তোমাকে কাউসার দান করেছি’ (আল কাউসার:১)। এখানে ‘ইন্না’(আমরা) বহুবচন সর্বনাম ব্যবহার হলেও আল্লাহ তাঁর নিজেকেই বুঝিয়েছেন। সুতরাং কুরআনের সকল বহুবচন শব্দ দ্বারা বহুবচন অর্থ নয় বরং ক্ষেত্রবিশেষে একবচন অর্থও প্রকাশ করে। অতএব, কুরআনের আয়াতের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে কেবল শাব্দিক অর্থ নয় অপরাপর আয়াতের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে, বর্ণিত ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে এবং কুরআনের ভাষাশৈলী ও শব্দের ব্যবহার রীতি জেনে অর্থ গ্রহণ করা জরুরি।

এছাড়া, সুরা আল বাকারার ২১৩ নং আয়াতকে উল্লেখ করে তারা বলে, আল্লাহ বলেন, ‘সকল মানুষ একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত। অত:পর আল্লাহ নবিদেরকে প্রেরণ করেছেন সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী হিসেবে।’ এখানে তাদের যুক্তি হলো দুনিয়াতে আগে থেকেই মানুষ ছিল অত:পর আদম (আ.) সহ অন্যান্য নবিকে প্রেরণ করা হয়েছে মানুষকে হেদায়েতের জন্য। মানুষ না থাকলে আদম (আ.) কাদেরকে সকর্ত করবেন? কিন্তু আমরা দেখি কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,‘এমন কোনো জাতি নেই যার মধ্যে কোনো সতর্ককারী অতিবাহিত হয়নি’ (সুরা ফাতির:২৪)। কুরআনে আরো একাধিক স্থানে প্রত্যেক জাতির জন্য নবির আগমনের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। 

সুতরাং আমরা যদি ধরে নিই যে আদম (আ.) এর পূর্বে পৃথিবীতে আরো মানুষ এসেছিল তবে তাদের হেদায়েতের জন্য কোন নবি ছিল? আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী মানুষ পৃথিবীতে আছে অথচ তাদের হেদায়েতের জন্য কোন সতর্ককারী নেই তা হতে পারে না। কারণ নবির দাওয়াত বিহীন সময়ে তারা কোন শরিয়ত পালন করবে? কীভাবে তাওহিদের শিক্ষা পাবে? বরং প্রথম মানুষ নবি হওয়াটাই বেশি যুক্তিযুক্ত। এতে তিনি তার পরবর্তী সকল বংশধরদের হেদায়েতের পথে আহ্বান করতে পারবেন।

তারা আরো যুক্তি প্রদান করে যে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে আদমের (আ.) দৃষ্টান্ত ঈসা (আ.)এর মত। তিনি আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং অতঃপর বলেছেন, হও, ফলে হয়ে গেছে’ (সুরা আলে ইমরান-৫৯)। পবিত্র কুরআনের অন্যত্র আল্লাহ ঈসা (আ.) সম্পর্কে বলেছেন, অত:পর আমি তার মধ্যে(মারইয়ামের) আমার পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দিলাম (সুরা আত তাহরিম: ১২)। একই কথা আদম (আ.) সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘যখন আমি তাকে সুগঠিত করব এবং তার মধ্যে আমার পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দেব’ (সুরা আল হিজর:২৯)। উক্ত আয়াতগুলোর আলোকে তারা বলতে চায় ঈসা (আ.) এর জন্মের সাথে আদম (আ.) জন্মের সাদৃশ্য রয়েছে। অর্থাৎ, ঈসা (আ.) এর যেমন মাতা ছিল তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছে, সুতরাং আদম (আ.) এরও মাতা রয়েছে যার মধ্যে রুহ ফুঁকে দেয়া হয়েছে। অথচ এটি খুবই দুর্বল যুক্তি যে সৃষ্টি হতে হলেই তার পিতা মাতা থাকতে হবে। আদম (আ.) এর মাতা থাকলে তার মাতা কে ছিলেন? এভাবে একের পর এক মাতা খুঁজতে হবে। সুতরাং অবশ্যই এটি যুক্তিযুক্ত যে আল্লাহ তাআলা কোনো একজনকে প্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সকল মানুষ সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত মানুষ সৃষ্টির আয়াত গুলো পর্যালোচনা করলে এটি পরিষ্কার বুঝা যায়, আল্লাহ তাআলা প্রথম মানুষ হিসেবে আদম (আ.) কে তৈরি করেছেন।  মাটি থেকে আদমের একটি কাঠামো তৈরি করে তাঁতে রুহ দান করেছেন, অতঃপর তাঁর থেকে স্ত্রী হাওয়া (আ.) কে তৈরি করেছেন। এরপর তাদের থেকে মানব সৃষ্টির জৈবিক প্রক্রিয়ায় সকল মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। 

পুরুষের শুক্রানুকে মাতৃগর্ভে স্থাপন করে, শুক্রাণু থেকে রক্তপিণ্ড, রক্তপিণ্ড থেকে মাংসপিণ্ড, তারপরে মাংসপিন্ডের মাঝে হাড়, হাড়ের কাঠামোকে মাংস-চামড়া দ্বারা আবৃত করে তারপর প্রাণদান করেছেন। এটি মানব সৃষ্টির ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা আদম ও হাওয়া (আ.) এর পর হতে ধারাবাহিক চলে আসছে। মানব সৃষ্টির এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় আদমের বংশধরদের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন হজরত ঈসা (আ.)। পিতার শুক্রাণু ছাড়াই আল্লাহ মারইয়াম আ. এর গর্ভে ঈসা (আ.) এর প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন। এক্ষেত্রে আদম আ. এর মতোই আল্লাহ বিশেষ প্রক্রিয়ায় সৃষ্টির চিরাচরিত নিয়মের বাইরে তাদের রুহ প্রদান করেছেন বা সৃষ্টি করেছেন। এজন্যই আল্লাহ আদমকে ঈসার মতোই বলেছেন।

আদম (আ.) ছিলেন প্রথম মানব ও প্রথম নবি যা কুরআন ও হাদিসের আলোকে মীমাংসিত বিষয়। এমনকি ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ীও আদম হলেন পৃথিবীর প্রথম মানব এবং প্রেরিত পুরুষ। কুরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকা সত্তে¡ও সংশয়বাদী ও ইসলাম বিদ্বেষী কিছু ব্যক্তি আদম (আ.) কে প্রথম মানব হিসেবে স্বীকার না করে অহেতুক সন্দেহ তৈরি করে চলেছে কিন্তু তারা আদম (আ.) ভিন্ন কোনো প্রথম মানুষের নিশ্চিত পরিচয় প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

লেখক: জুবাইর আহমেদ, শিক্ষক ও ইসলামি আলোচক।