শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকা উচিত
শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকা উচিত। কারা মূল্যায়ন করতে পারবে, কোন কোন ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন করা যাবে, সেই মূল্যায়নের তথ্যে কাদের এক্সেস থাকবে, সেই তথ্য ব্যবহার করে কীভাবে শিক্ষকরা তাদের পাঠদানে ইতিবাচক ভূমিকা আনবেন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগে থেকে চিন্তাভাবনা করার দরকার ছিল।
এসব চিন্তা না করে স্রেফ শস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে এসে শিক্ষক ইভ্যালুয়েশনের নামে শিক্ষকদের জনপরিসরে হেনস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কীভাবে তার শিক্ষককে মূল্যায়ন করে, তা জানার কি কোনো সুযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো আছে? নেই। চাইলে কি যে কেউ ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রিভিউ দেখতে পারে? পারে না। অথচ, ডাকসু থেকে একটা পাবলিক ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে যার এক্সেস আবার দুনিয়ার সবার কাছে রয়েছে। যে কেউ ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে আসতে পারবে মিস্টার/মিসেস অমুকের রিভিউ কেমন।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কি কোনো ফুড আইটেম? মনে হচ্ছে যেন ফুডব্যাংকের মতো পাবলিক গ্রুপে রেস্টুরেন্টের খাবারের রিভিউ দেওয়া হচ্ছে। এই কাজ করে আবার বাহবাও কুড়াচ্ছে স্বল্পবুদ্ধির ইতরগুলো।
গত দুই-তিন দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ তৈরী হয়েছে। অন্তত দুই জন শিক্ষক আমাকে সরাসরি এই বিষয় নিয়ে তাদের হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকগণের ইভালুয়েশন ডেটা তার ঊর্ধ্বতনদের হাতে যেতে পারে; কিন্তু তা কী করে জনপরিসরের কাছে এক্সেসিবল বিষয় হয়ে ওঠে তা নিয়ে অনেক শিক্ষক হতবাক হয়েছেন।
আরও দেখুন: বিজিবিতে সিপাহী নিয়োগ, এইচএসসি পাস করলেই করা যাবে আবেদন
ভিপি সাদিক কায়েমের মতে, ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু এক বছরেও প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ডাকসুর উদ্যোগে ওয়েবসাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আশ্চর্য হয়ে যাই এই লোকের যুক্তিবোধ দেখে! ডাকসুর কাজ পলিসি তৈরী করতে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রেশার দেওয়া। প্রশাসনিকভাবে কোনো কিছু বাস্তবায়ন না হলে নিজেরা সেই কাজ করতে হবে? প্রশাসন কাউকে সিট দিতে না পারলে কি ডাকসু সদস্যরা তার ঢাকা শহরে থাকার সিটভাড়া দিয়ে দেবে?
আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে চাই। তাদের পাঠদান পদ্ধতি ও ওভারঅল এপ্রোচ যেন শিক্ষার্থীবান্ধব হয় সেটা অবশ্যই চাই। কিন্তু সেটা হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। কোনো ব্যক্তি উদ্যোগে ভূইফোড় পোর্টালের মাধ্যমে না।
খালিদ এম শেহেজান
সহ- আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।