৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৪

জাতীয়তাবাদ থেকে রাষ্ট্রসংস্কার: বিএনপি’র ৪৮ বছরের পথযাত্রা ও নতুন বাংলাদেশের প্রশ্ন

মাকসুদুর রহমান  © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জন্মদিন নয়; এটি বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পথচলারও একটি অপরিহার্য আয়না। 

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই অতীতের অর্জন ও সংগ্রাম স্মরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাববার উপলক্ষ। ১৯৭৮ সালে যে রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বিএনপি’র যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের স্রোতধারায় তার ভাষা ও অগ্রাধিকার বদলেছে। 
কিন্তু একটি মূল প্রশ্ন থেকে গেছে- কীভাবে একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, আত্মমর্যাদাশীল ও জনবান্ধব জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়? 

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে স্টেকহোল্ডারশীপ পলিটিক্সে- ‘পরিচিতি নির্মাণের রাজনীতি’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পপুলিজম পলিটিক্সের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডারশীপ ধরে রাখার মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা- অত্যন্ত অদক্ষ শাসকে পরিণত হন এবং একটি কাল্ট সিস্টেম গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরী করেন।  

পরবর্তীতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বলে বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা- দুর্নীতি, দুঃশাসন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জোড় করে ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে- ফ্যাসিস্ট বাকশালী ব্যবস্থায় পরিণত হয়, আর বাংলাদেশের বুকে ’৭৫ নেমে আসে। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর হাত থেকে রাজনীতি চলে যায়- সেনাশাসন, বিপ্লব-প্রতিবিপ্লব, অভ্যুত্থান আর ক্ষমতার রদবদলের ঘূর্ণিপাকের অনিশ্চয়তায়। 
নতুন ধরনের রাজনৈতিক দর্শন সব সময় নতুন ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা থেকেই তৈরি হয়। আর সেই ক্রান্তিকালেই সময়োপযোগী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রয়োজনকে মাথায় রেখে- ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল, জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’র আবির্ভাব ঘটে।   

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর, শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি’র যাত্রা শুরু হয়- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, বহুদলীয় রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের ধারণাকে সামনে রেখে। 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’ ছিল সেই সময়ের বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক ও উন্নয়ন ভাবনা। কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ ও জনগণের অংশগ্রহণ ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ দিক। 

এছাড়া, সকল বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের সমাজতন্ত্র- জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে প্রতিফলন করা, এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা ছিলো সময়োপযোগী দাবি। জাতীয়তাবাদকে শুধু আবেগের জায়গায় না রেখে মানুষের জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ছিল ১৯ দফার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 

সময় বদলেছে, বাংলাদেশও বদলেছে। সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন–২০৩০’ বিএনপি’র রাজনৈতিক চিন্তায় নতুন মাত্রা যোগ করে। ক্ষমতার ভারসাম্য, রেইনবো ন্যাশন থিউরি, কার্যকর সংসদ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়তাবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের প্রশ্ন।

এরপর তারেক রহমানের ‘৩১ দফা’ সেই ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে রাষ্ট্রসংস্কারের প্রশ্ন সামনে এনেছে। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মতো প্রস্তাব এতে স্থান পেয়েছে।

এই তিনটি কর্মসূচিকে পাশাপাশি রাখলে একটি রাজনৈতিক বিবর্তন চোখে পড়ে—
১৯ দফা: (জাতীয়তাবাদ ও আত্মনির্ভরতা), ভিশন- ২০৩০: (গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদ), ৩১ দফা: (রাষ্ট্রসংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা) । 
এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট দীর্ঘদিন ধরে শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন’। দীর্ঘদিনের আওয়ামী স্বৈরাচারীতা ও ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রভাবে- বাংলাদেশের সংসদ দুর্বল হয়েছে, প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রভাবের বাইরে থাকতে পারেনি, বিরোধী মতকে প্রতিপক্ষের বদলে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক আস্থার সংকট থেকে গেছে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রসংস্কারের প্রশ্ন আজ আর কোনো দলের একক রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের প্রয়োজন। আর এখানেই বিএনপি’র সবচেয়ে বড় প্রাসঙ্গিকতা, সুযোগ এবং পরীক্ষা।

৩১ দফায় যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন রাজনৈতিক আত্মসংযম। কারণ শক্তিশালী গণতন্ত্রের লক্ষণ হলো শুধু নিজ দলের জন্য স্বাধীনতা দাবি করা নয়; প্রতিপক্ষের অধিকারও সমানভাবে রক্ষা করা।

কোনো দল চিরকাল ক্ষমতায় থাকে না, থাকবে না। আজ যে সরকারে, কাল সে বিরোধী দলে যেতে পারে। তাই স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মুক্ত গণমাধ্যম, কার্যকর সংসদ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসন- এসব অন্যের জন্য নয়; শেষ পর্যন্ত সবার জন্য নিরাপত্তার দেয়াল।

বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসেও সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতা আছে। একটি পরিণত রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হলো শুধু অর্জনের কথা বলা নয়, ভুল থেকেও শিক্ষা নেওয়া। অতীতের রাজনৈতিক সংঘাত, সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি, সহিংসতা, দুর্নীতি ও জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন রাষ্ট্রসংস্কারের প্রতিশ্রুতিও পুরোনো রাজনীতির চক্রে আটকে যেতে পারে।

আজকের তরুণ বাংলাদেশও আগের বাংলাদেশ নয়। তরুণেরা শুধু জাতীয়তাবাদের স্লোগান শুনতে চায় না; তারা চায় যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ, দুর্নীতিমুক্ত সেবা, নিরাপদ মতপ্রকাশ এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ। তাই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে নতুন প্রজন্মের ভাষায় অনুবাদ করতে হবে- কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের ভাষায়।

এই জায়গাতেই ১৯ দফার আত্মনির্ভরতার ধারণা নতুন অর্থ পেতে পারে। আত্মনির্ভরতা আজ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়; এটি দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি, শিল্প, জ্বালানি, কৃষি, রপ্তানি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে সক্ষমতা অর্জনের প্রশ্ন। 

একটি দলের রাজনৈতিক মতাদর্শ সেই দলের রাজনৈতিক আচরন ও গতিপথ নির্ধারণ করে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে, তবে তিনি সেই পরিচয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চান নি। রাজনৈতিক শূন্যতা ও পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রয়োজনে- বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারণা নিয়ে হাজির হন রাজনীতির মাঠে। তিনি কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিপরীতে জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতির সংস্কৃতি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জনগণের হাতে। অর্থাৎ, বিএনপি’র জন্ম ও আদর্শিক ভিত্তিই ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও এর বাস্তবায়ন। 

একটি স্বাধীন দেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ভিত্তি হলো- জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র প্রাসঙ্গিক বিশেষত্বও তাই- জাতীয়তাবাদী আদর্শিক লড়াইয়ের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের মাঝেই নিহিত। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বিএনপি’র চেতনা। বাংলাদেশের প্রতিটি মুক্তিকামী ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে, সংকটে, সংগ্রামে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করে, বেগম খালেদা জিয়া- স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আপোষহীন ভূমিকা পালন করেন এবং ’৯০ এর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন।

পরবর্তীতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ১০ মে, ২০১১ সালে, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলে- বেগম জিয়া আবারও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে নামেন। দীর্ঘজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেন, কারাবরণ করেন এবং আপোষহীন দেশনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। জুলাই ‘২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান, বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘজীবন আপষহীন স্বৈরাচারবিরোধী লড়াই সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। 

মূলত একটি বৈষম্যহীন রেইনবো ন্যাশন তৈরি, সমতা ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা, গণভোট, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন; সর্বোপরি ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারীতার বিপরীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবীতেই এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকেই ছাত্র-জনতার জুলাই ’২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। 

জুলাই ’২৪ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তিত গতিপথের নতুন পথনির্দেশক। বিএনপি- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারক ও বাহক। আর জাতীয়তাবাদী আদর্শ তাই এখানেই গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে প্রাসঙ্গিকতা পায়। বিএনপি’র বর্তমান চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান, বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে চর্চা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি দৃশ্যগত রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেই মনে হচ্ছে।  

প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় প্রধান হিসেবে আলাদা ভূমিকা পালন করার চেষ্টা; সরকারে থেকেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দখলদারিত্বের রাজনীতির চর্চা থেকে দূরে থাকা, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাবার পরও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি থেকে বিরত থাকার চেষ্টা এবং অংশগ্রহনমূলক সংসদের পরিবেশ ধরে রাখা সহ, বিরোধী মতামতকে সহনশীলতার সাথে গ্রহণ করার চর্চা চোখে পরার মতো। 

এছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার চেষ্টা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মানসিকতা- নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চাকে একটি ইনক্লুসিভ ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক যাত্রায়, আলাদা গতিপথ দিবে বলেই আশা করা যায়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির বড় বিজয় এবং নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কমনওয়েলথও নির্বাচনটিকে একটি ‘Democratic Milestone’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতি সুসংহত করতে আরও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে।  
তবে শেষ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির মূল্য তার শব্দে নয়; বাস্তবায়নে।

বাংলাদেশের মানুষ এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা দেখতে চায়- নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সংসদ কতটা কার্যকর, বিচার ব্যবস্থা কতটা স্বাধীন, প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ এবং সরকার কতটা জবাবদিহিমূলক। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত ক্ষমতায় আসা নয়; বরং ক্ষমতায় থেকে কীভাবে ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে? ১৯ দফা যে জাতীয়তাবাদের বীজ বুনেছিল, ভিশন- ২০৩০ যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখিয়েছে এবং ৩১ দফা যে রাষ্ট্রসংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে- তার পূর্ণতা তখনই সম্ভব হবে, যখন রাষ্ট্র কোনো দলের হবে না; রাষ্ট্র হবে নাগরিকের।

রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিজয় প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়। সবচেয়ে বড় বিজয় হলো- এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে নিজের দলও একদিন বিরোধী দলে গেলে নিরাপদ বোধ করবে।

বিএনপি’র সামনে আজ সেই ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। ৪৮ বছর আগে তারা একটি রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু করেছিল। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হলো- একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যাত্রা শুরু করা। আর সেই সংস্কৃতিতে জাতীয়তাবাদ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতন্ত্র হবে প্রাতিষ্ঠানিক, নির্বাচন হবে বিশ্বাসযোগ্য, সংসদ হবে জবাবদিহির কেন্দ্র, আর রাষ্ট্র হবে- সবার। 

-মাকসুদুর রহমান 
  সহ-সভাপতি, 
  মতিঝিল থানা, 
  ঢাকা মহানগর জিয়া পরিষদ।