২০ জুলাই ২০২৬, ১৯:০২

নীরব ঘাতক মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার: সচেতনতাই বাঁচাতে পারে লাখো প্রাণ

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার  © টিডিসি সম্পাদিত

২৭ জুলাই বিশ্ব হেড-নেক ক্যান্সার দিবস। মাথা ও ঘাড়ের রোগ নিরাময়ে নিয়োজিত বিভিন্ন চিকিৎসা শাখার একযোগে কাজ করার এটি একটি অনন্য সুযোগ। এর মূল লক্ষ্য— সচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা। ২০১৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হেড নেক অনকোলজিক সোসাইটিজ এই দিবসটি নির্বাচন করে এবং তা প্রতিবছর নিয়মিত পালন করে আসছে। এখন থেকে এ দিবস কেন্দ্রিক সপ্তাহ পালন করা হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হেড নেক অনকোলজিক সোসাইটিজ (আইএফএইচএনওএস) হলো বিশ্বের সকল দেশের হেড-নেক ক্যান্সার সোসাইটিগুলোর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম। এতে রয়েছে ৫৫টি হেড-নেক ক্যান্সার সোসাইটি, ৫১টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং ইউআইসিসি। ইউআইসিসি হলো প্রায় সকল ক্যান্সার রোগের একাডেমিক চর্চার এবং ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম ও থিংক-ট্যাংক। এতে ১৭৩টি দেশের ১২০১টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত রয়েছে। আমেরিকার নিউইয়র্কে ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা মাইকেল ডগলাস আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব হেড-নেক ক্যান্সার দিবসের ঘোষণা দেন।

বিশ্ব হেড-নেক ক্যান্সার দিবসে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা, কী কী কারণে বা অভ্যাসে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, কীভাবে এ অভ্যাস থামানো যায়, ক্যান্সারের উগ্রতা কীভাবে বন্ধ করা যায় এবং এ রোগ প্রতিরোধের জন্য কী কী করা যেতে পারে— সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা হবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্যান্সার বিষয়ে সাধারণ ধারণার প্রসার, একেবারে শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা, এ রোগের যথাযথ চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা এবং চিকিৎসার ফলাফল ইত্যাদি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে।

সচেতনতা থেকে পদক্ষেপ: মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এক বিশ্ব, এক কণ্ঠস্বর
এই বছর আমাদের লক্ষ্য কেবল সচেতনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, একটি বাস্তবসম্মত এবং বিশ্বব্যাপী সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা; যা আমাদের চিকিৎসাগত দায়বদ্ধতা ও রোগী-কেন্দ্রিক সেবার মেলবন্ধন ঘটাবে। এই লক্ষ্যে আমরা সকল অংশগ্রহণকারী সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এবং সদস্যদের একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যার দুটি মূল অংশ রয়েছে—

১. ৬০-সেকেন্ডের মাথা ও ঘাড় পরীক্ষা (The 60-Second Head & Neck Check): সংশ্লিষ্ট সকল শাখার (ইএনটি, অনকোলজি, ডেন্টিস্ট্রি, প্রাইমারি কেয়ার) চিকিৎসকদের উৎসাহিত করা, যেন তারা এই সপ্তাহে আগত সকল রোগীর একটি সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট ৬০-সেকেন্ডের স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী কেন্দ্র কতজন রোগীর স্ক্রিনিং করা হলো, সেই সংখ্যাটি লিপিবদ্ধ করে রাখবে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন হিসেবে এই বৈশ্বিক ডেটা আইএফএইচএনওএস প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শন করা হবে।

২. রোগীর কণ্ঠস্বর প্রাচীর (বৈশ্বিক ডিজিটাল ক্যাম্পেইন): প্রতিটি সংগঠন, কেন্দ্র বা সদস্য নিচের যেকোনো একটি বিষয় শেয়ার করবেন—
* রোগীর সংক্ষিপ্ত অনুভূতির কথা (ক্যান্সার জয়, চ্যালেঞ্জ বা সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প)।
* অথবা, চিকিৎসক ও রোগীদের একটি ছবি, যেখানে তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা থাকবে: ‘আমি পরীক্ষা করিয়েছি / আমি যত্নশীল / আমি মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার সচেতনতায় পাশে আছি।’

এই সমস্ত তথ্য ও ছবি নিয়ে আইএফএইচএনওএস ওয়েবসাইটে একটি ‘গ্লোবাল পেশেন্ট অ্যান্ড প্রোভাইডার মোজাইক’তৈরি করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে আমাদের সংহতির প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।

ক্যান্সারের ব্যাপকতা
এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০২০ সালে প্রতি ছয় জনের মৃত্যুর মধ্যে এক জনের মৃত্যু ক্যান্সারের কারণে হয়েছে এবং বিশ্বে ক্যান্সারে কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতি দুই জনে একজন তাদের জীবদ্দশায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এতে পুরুষের সংখ্যা মহিলাদের দ্বিগুণ। গত দশকে এ সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী এক দশকে এ সংখ্যা দেড় কোটিতে পৌঁছাবে, যার আনুমানিক দু-তৃতীয়াংশ হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

আমেরিকার নিউইয়র্কে ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই বিশ্ব হেড-নেক ক্যান্সার দিবসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিচ্ছেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা মাইকেল ডগলাস

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশে ক্যান্সারের ব্যাপকতা ঠিক কতটা, তার যথাযথ পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। তবে আনুমানিক ২০ লাখ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী বাংলাদেশে রয়েছে। প্রতি বছর আনুমানিক আরও ২ লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রায় ১ লাখ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন। সে হিসাবে আমাদের দেশে প্রতিদিন এই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে ২৭৩ জন মানুষ (দ্য ডেইলি স্টার, ১০ই জানুয়ারি ২০২২)।

হেড-নেক ক্যান্সারের ব্যাপকতা
কোন ক্যান্সারে কতজন আক্রান্ত হচ্ছেন, সে দিকে আমরা একটু আলোকপাত করব। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো ক্যান্সার রেজিস্ট্রি নেই। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের সর্বশেষ প্রকাশিত (২০১৫-২০১৭) রিপোর্ট অনুযায়ী সর্বাধিক আক্রান্ত ক্যান্সার হলো পুরুষের জন্য ফুসফুসের ক্যান্সার এবং মহিলাদের জন্য স্তনের ক্যান্সার। এই রিপোর্টে হেড-নেক ক্যান্সারের বিভিন্ন অংশ আলাদাভাবে হিসাব করা হয়েছে। হেড-নেক ক্যান্সার বলতে শরীরের যে অংশের ক্যান্সার বোঝায় সেগুলো হলো— মুখ ও মুখ-গহ্বরের ক্যান্সার, থাইরয়েড ক্যান্সার, নাকের ক্যান্সার, সাইনাসের ক্যান্সার, কণ্ঠনালীর ক্যান্সার, গলনালীর ক্যান্সার, শ্বাসনালীর ক্যান্সার, খাদ্যনালীর ক্যান্সার, নানারকম লালাগ্রন্থির ক্যান্সার, হেড-নেকের ত্বকের ক্যান্সার, হেড-নেকের লসিকাগ্রন্থির ক্যান্সার ইত্যাদি।

আলাদা আলাদা অবস্থানের হিসেবে পুরুষের সারণিতে দেখা যাচ্ছে প্রথম দশটি ক্যান্সারের মধ্যে পুরোপুরি দুটি এবং আংশিকভাবে আরও দুটি হেড-নেক ক্যান্সার। মহিলাদের সারণিতে প্রথম দশটি ক্যান্সারের মধ্যে পুরোপুরি একটি এবং আংশিকভাবে আরও দুটি হেড-নেক ক্যান্সার রয়েছে। অর্থাৎ, হেড-নেকে আক্রান্ত সব ক্যান্সারের যোগফল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের সর্বশেষ প্রকাশিত সারণিতে সর্বাধিকের কাছাকাছি।

এর বাইরে থাকছে থাইরয়েড ক্যান্সার। আন্তর্জাতিক এক হিসাবে দেখা গেছে, অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন রকম থাইরয়েড রোগ রয়েছে এবং এর দশ ভাগের এক ভাগ থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত। থাইরয়েড ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা প্রধানত সার্জারি বা অপারেশন। আরও গভীরতর (Advanced) থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় সার্জারি ছাড়াও রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন থেরাপি নিতে হয়, যা নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ প্রদান করে। এই বিপুল পরিমাণ রোগী প্রথাগত ক্যান্সার হাসপাতালে যায় না স্বাভাবিক কারণেই। এ জন্য এই রোগীগুলো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের সর্বশেষ প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখিত হয়নি।

নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের থাইরয়েড ডিভিশনের সাথে কথা বলে জানা যাচ্ছে যে, দেশের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের সব সেন্টারগুলোতে বছরে আনুমানিক ২২০০-২৫০০ রোগী থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে থাইরয়েড ক্যান্সারের সব রোগী এখানে আসেন না, বিশেষত প্রাথমিক পর্যায়ের থাইরয়েড ক্যান্সারের রোগীরা, কারণ তাদের এই থেরাপির দরকার হয় না। তাছাড়া গভীরতর থাইরয়েড ক্যান্সারের রোগীদের কেউ কেউ অপারেশনের পর এখানে রিপোর্ট করতে বললেও অবহেলা করে আসেন না। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, যদি সঠিকভাবে হিসাব করা হয়, তবে সব হেড-নেক ক্যান্সারের সম্মিলিত সংখ্যা আমাদের দেশে সর্বাধিক হবে।

সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবা: কষ্ট ও ভোগান্তি
হেড-নেক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ফলে মানুষের কী নিদারুণ কষ্ট হয় এবং এর চিকিৎসা নিতে গিয়ে মানুষ কী পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হয়, তা আমরা সবাই পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। একমাত্র ভুক্তভোগীরাই তা কেবল উপলব্ধি করতে পারেন। দেশে এ রোগে আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ খুবই অপ্রতুল এবং চিকিৎসা সেবা পাওয়া অনেকটা দুঃসাধ্য।

অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এ রোগের চিকিৎসা সুবিধা নেই। সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ এবং অত্যধিক ভিড় রয়েছে, সেই সাথে রয়েছে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর অভাব। একেকটি বড় হেড-নেক সার্জারিতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ সারা দেশে এ রোগের বিশেষায়িত অপারেশন করেন মাত্র আনুমানিক ২৫ জন সার্জন। বিভিন্ন কারণে রোগীরা আসেন অনেক দেরিতে, রোগ যখন গভীরতর পর্যায়ে চলে যায়। ফলে চিকিৎসার মাধ্যমে এদের সারিয়ে তোলা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি হাসপাতালে মাত্র এ ধরনের অপারেশন হয় এবং সেখানে খরচ অতিমাত্রায়। অপারেশন পরবর্তী রেডিওথেরাপির অবস্থাও খুবই ভয়াবহ। রোগীর তুলনায় সেন্টারের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় রেডিওথেরাপি শুরু করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। এতে করে হয়তো রোগ আবার ফিরে আসে, নয়তো রোগীকে কেমোথেরাপির যন্ত্রণায় পড়তে হয়। ফলে রোগী আর সহজে সুস্থ হতে পারে না।

আমেরিকার নিউইয়র্কে ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই বিশ্ব হেড-নেক ক্যান্সার দিবসের ঘোষণা অনুষ্ঠানে লেখক (বামে), সাথে হেড-নেক ক্যান্সারের কিংবদন্তি সার্জন অধ্যাপক জে পি সাহা ও অনুষ্ঠানের দুই উপস্থাপক হলিউড অভিনেত্রি ও সিএনএনের উপস্থাপক।

হেড-নেক ক্যান্সারের বিশেষ কষ্ট ও ভোগান্তি হলো, এটি শরীরের এমন এক অংশে হয় যা দৃশ্যমান। গভীরতর ক্যান্সারগুলো দ্রুতই মানুষের চেহারায় বিকৃতি আনে, ব্যাপক যন্ত্রণা দেয় এবং কষ্টদায়ক গন্ধ ছড়ায়। এটি মানুষের সুমধুর কণ্ঠ বিনষ্ট করে এবং খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। ফলে সমাজ ও পরিবার তাকে আর স্বাভাবিক জীবনে গ্রহণ করতে পারে না। অপরপক্ষে, একটু সতর্ক থাকলে এ রোগ একেবারে প্রথম দিকেই ধরা পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ের হেড-নেক ক্যান্সারের চিকিৎসা খুবই সহজ, খরচ কম এবং এর ফলাফল অত্যন্ত ভালো। এ সব কারণে দ্রুত এর চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

আশার কথা
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল ৫০ বেড থেকে ধাপে ধাপে উন্নীত হতে হতে বর্তমানে ৫০০ বেডে পৌঁছেছে। সরকারি উদ্যোগে দেশের আটটি বিভাগে বড় মাপের ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যার মোট বেড সংখ্যা হবে ১৪০০। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে হেড-নেক সার্জারি ডিভিশন চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য এক বছরের ফেলোশিপ চালু করা হয়েছে। কীভাবে এসব হাসপাতালের মাধ্যমে অসহায় রোগীদের আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আরও বেশি চিন্তা ও চেষ্টা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতকে ধারণ করে কাজ করতে হবে।

বেসরকারি খাতেও উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছেন। নতুন নতুন সেন্টার হচ্ছে এবং রেডিওথেরাপি মেশিন বসছে। কিন্তু সেখানে খরচ অনেক বেশি এবং তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আমরা এগিয়েছি বটে, তবে আমাদের যেতে হবে আরও অনেক দূর।

প্রতিরোধে কী করণীয়?
আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বে এক কোটির বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। প্রতি ৫ জনের মধ্যে ৩ জন প্রাথমিক উপসর্গগুলো উপেক্ষা করছেন, যা না করলে তাদের সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। যতই চিকিৎসা সুবিধা থাকুক, ক্যান্সার একবার হলে তা অনেক কষ্টের কারণ হয়। এ জন্য প্রতিরোধই হলো সর্বোত্তম উপায়।

এর জন্য সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। চর্বি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খেতে হবে এবং খাদ্যে ফলমূল ও সবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে। ধূমপান সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে এবং মদ্যপান পরিহার করতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণ এড়িয়ে চলতে হবে। পান ও তামাক বর্জন করা জরুরি। সেই সাথে পরিশীলিত যৌন জীবন যাপন করতে হবে।

একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ ক্যান্সার রেজিস্ট্রি চালু করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে পরিবর্তনশীল চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। গলা ফোলা, মুখে ঘা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, খেতে কষ্ট হওয়া, নাকে রক্ত পড়া ইত্যাদির ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকুন। সময়মতো ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ভালো থাকুন।

ডা. মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার
অধ্যাপক, হেড-নেক সার্জারি ডিভিশন
নাক কান গলা – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা।