০৭ জুলাই ২০২৬, ২০:৫২

আমাদের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য কি শুধুই চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি?

ড. মো. মাহমুদুল হাসান শিকদার  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ছবিটি আজকে সকালের! সকাল আটটায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির সামনে চাকরি প্রত্যাশী আমার শিক্ষার্থীদের লম্বা ভিড়। টেকনিক্যাল সাবজেক্টে পড়াশোনা করে কত কষ্ট করে পাশ করার পর আবারও নতুন কষ্টের শুরু।

কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি ও ভাইরাল হয়েছিল পত্রিকার পাতায়। এই ছবিটি আমাকে আনন্দের চেয়ে বেশি ভাবিয়েছে। আমাকে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করার পরও সোনার হরিণের পেছনে দৌড়ানোর জন্য জীবনের সেরা সময়টা পার করে দিচ্ছে আমার সন্তানেরা!

এটি শিক্ষার্থীদের দোষ নয়। বরং এটি আমাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার একটি বাস্তব চিত্র। একজন শিক্ষার্থী নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। চার-পাঁচ বছর কঠোর পরিশ্রম করে। রাষ্ট্রও তার পেছনে বিপুল বিনিয়োগ করে। 

কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে সে যদি মনে করে, "আমার বিষয় নিয়ে কাজ করার চেয়ে অন্য পেশায় গেলে ভবিষ্যৎ বেশি নিরাপদ"— তাহলে আমাদের থেমে ভাবতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি, বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিষয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীরা যোগ দিচ্ছেন। এটি তাদের যোগ্যতার প্রমাণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু একই সঙ্গে এটি একটি নীতিগত প্রশ্নও সামনে আসে; আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করতে পেরেছি? যেখানে একজন চিকিৎসক চিকিৎসক হিসেবেই, একজন প্রকৌশলী প্রকৌশলী হিসেবেই, একজন কৃষিবিদ কৃষিবিদ হিসেবেই, একজন ভেটেরিনারিয়ান ভেটেরিনারিয়ান হিসেবেই এবং একজন মৎস্য কর্মকর্তা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবেই গর্বের সঙ্গে নিজের পেশায় থাকতে চান?
যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে সমস্যাটি ব্যক্তির নয়—সিস্টেমের।

আমি বিশ্বাস করি, সমাধান কোনো পরীক্ষা বন্ধ করা নয়, কোনো ক্যাডারের সুযোগ কমানোও নয়।
সমাধান হলো, প্রতিটি পেশায় মর্যাদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য বেতন, গবেষণার সুযোগ এবং স্পষ্ট ক্যারিয়ার অগ্রগতির পথ নিশ্চিত করা।
যেদিন একজন শিক্ষার্থী বলবে, আমি যে বিষয়টি ভালোবেসে পড়েছি, আমি সারাজীবন সেই পেশাতেই কাজ করতে চাই। কিংবা আমি অন্য পেশাতে যেতে চাই সেটি আমার ভালো লাগছে দেখে। সেদিনই আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা তার প্রকৃত উদ্দেশ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। এ বিষয়ে পলিসি পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান শিকদারের টাইমলাইন থেকে।