২০ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪২

শৈশবের ঈদ কি হারিয়ে যাচ্ছে?

নুর ইসলাম  © টিডিসি সম্পাদিত

ঈদ এলেই একসময় বুকের ভেতর অদ্ভুত এক উত্তেজনা কাজ করত। নতুন জামার গন্ধ, চাঁদ দেখার আনন্দ, রাত জেগে অপেক্ষা! সব মিলিয়ে ঈদ ছিল একরাশ নির্মল সুখের নাম। কিন্তু সময়ের স্রোতে দাঁড়িয়ে আজ প্রশ্ন জাগে, শৈশবের সেই ঈদ কি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে?

একসময় ঈদের আনন্দ শুরু হতো অনেক আগে থেকেই। রমজানের শেষ দিকে বাজারে যাওয়া, পরিবারের সবাই মিলে কেনাকাটা, কোন জামাটা পরা হবে তা নিয়ে উত্তেজনা -এসব ছোট ছোট বিষয়ই বড় আনন্দ হয়ে উঠত। এখনো কেনাকাটা হয়, তবে সেই অনুভূতির গভীরতা যেন আগের মতো নেই। সবকিছুই যেন তাড়াহুড়ো, হিসাব আর আনুষ্ঠানিকতার ভেতরে সীমাবদ্ধ।

শৈশবের ঈদ মানেই ছিল সকালবেলার নতুন জামা পরে ঈদের নামাজে যাওয়া, ফিরে এসে সেমাই-ফিরনি খাওয়া, তারপর শুরু হতো ঘোরাঘুরি। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা, সালাম করে “ঈদি” নেওয়া- এসবের মধ্যেই লুকিয়ে থাকত অসীম আনন্দ। এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া। দেখা না করেও ‘ঈদ মোবারক’ বলা যায়, কিন্তু তাতে কি সেই অনুভূতি থাকে?

প্রযুক্তির এই যুগে ঈদের রূপও বদলে গেছে। আগে যেখানে বিকেল হলেই বন্ধুরা একসঙ্গে বের হতো, এখন অনেকেই ব্যস্ত থাকে স্ক্রিনে- ছবি আপলোড, স্টোরি দেওয়া আর লাইক-কমেন্টের হিসাব নিয়ে। বাস্তবের আনন্দ যেন ভার্চুয়াল জগতে আটকে যাচ্ছে।

তবে কি সত্যিই শৈশবের ঈদ হারিয়ে গেছে? নাকি আমরা নিজেরাই সেই অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছি? হয়তো সময়ের পরিবর্তন অনিবার্য, কিন্তু অনুভূতির জায়গাটা তো আমাদের হাতেই। চাইলে এখনো আমরা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি, বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারি, ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।

ঈদের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সম্পর্কের উষ্ণতায়, একসঙ্গে থাকার আনন্দে। নতুন জামা বা ছবির চেয়ে অনেক বড় হলো - একটি আলিঙ্গন, একটি আন্তরিক শুভেচ্ছা, একটি হাসিমুখ।

তাই শৈশবের ঈদ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তা এখনও আছে, আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের চাওয়ায়। শুধু প্রয়োজন সেই অনুভূতিটাকে আবার জাগিয়ে তোলা। হয়তো তখনই আমরা বুঝতে পারব, ঈদের আনন্দ আসলে কোথাও হারিয়ে যায়নি - আমরাই একটু দূরে সরে গিয়েছিলাম। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ।