ভর্তি পরীক্ষা নয়, লটারির মাধ্যমেই হবে মেধার সুষম বণ্টন
স্কুল-কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতির চেয়ে লটারি পদ্ধতিই বেশি যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করি। ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে শহরের পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাবে, আর গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো শিক্ষার্থী কম পাবে কিংবা একেবারেই পাবে না।
গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের দিয়ে ভাল ফলাফল করানো তখন কঠিন হয়ে পড়বে। ফলাফল খারাপ হলে অযথাই শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ভালো শিক্ষার্থীর অভাবে শিক্ষকরাও নিজেদের দক্ষতা ও মান ধরে রাখার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে না।
বাস্তবতা হল— গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিকে পড়লেও তাদের মৌলিক জ্ঞান প্রাথমিক স্তরের মতই থাকে। অথচ তাদের পাশ করানোর জন্য সরকার নির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দিয়েছে; নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী পাশ না করলে এমপিও নিয়েও টানাপোড়েন শুরু হবে। বিষয়টি কি সত্যিই হাস্যকর নয়?
অন্যদিকে শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি ১০০% মেধাবী শিক্ষার্থী নিয়েই ১০০% ভালো ফলাফল করে, সেটি আসলে বিশেষ কোনো কৃতিত্ব নয়; বরং এটি একটি স্বাভাবিক ফল।
আমি মনে করি, লটারির মাধ্যমেই ভর্তি প্রক্রিয়া চালু থাকা উচিত। এতে করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই দুর্বল ও মেধাবী— উভয় ধরনের শিক্ষার্থী তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টিত হবে। গ্রাম থেকে যদি সব মেধাবী শিক্ষার্থী শহরে চলে যায়, তাহলে গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক— সবাই ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়বে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।
বাস্তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সবকিছু নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষার্থীর নিজের চেষ্টা ও অধ্যবসায়। চেষ্টা ও আগ্রহ থাকলে যেকোনো জায়গা থেকেই ভালো ফলাফল করা সম্ভব—এই মানসিকতা ও সংস্কৃতি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তাছাড়া শহরে যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যা। জ্যাম নিরসনের জন্য যেমন শিল্পকারখানা গ্রামে স্থানান্তরের কথা বলা হয়, তেমনি গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও শিক্ষার্থীদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে শহরমুখী প্রবণতা কমবে। তখন প্রত্যেক গ্রামেই ধীরে ধীরে শহুরে সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠবে।
রাসেল ইব্রাহীম
শিক্ষক, গীতিকার ও কলামিস্ট