০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৬

ক্যাম্পাসে আর ফিরবেন না সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিকেলের ছাত্র রাতুল, চলে গেছেন না ফেরার দেশে

মো. রাতুল ইসলাম  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

‘আমি আবার আমার প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই, মোড়লে বসে আপনাদের সাথে আড্ডা দিতে চাই, আমি বাঁচতে চাই, আপনারা আমাকে বাঁচান’—কথাগুলো সোমবার রাতে সম্মিলিত ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লিখেছিলেন মো. রাতুল ইসলাম। বাঁচার আকুতি জানানো এই শিক্ষার্থী আজ চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

রাতুলের সহপাঠীরা জানিয়েছেন, রাতুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রক্তের জটিল রোগ ‘হিমোফিলিয়া’য় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি গত কয়েকদিন যাবৎ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে ক্যাম্পাসজুড়ে শোক নেমে এসেছে। রাতে এশার নামাজের পর ক্যাম্পাসে তার প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে নেওয়া হবে গ্রামের বাড়িতে।

জানা গেছে, রাতুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। তিনি পাবনার বেড়া উপজেলায় আল হেরা একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ২০২৩-২৪ সেশনে সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ভর্তি হয়েছিলেন।

সহপাঠীরা জানান, রাতুল সোমবার রাতে তাদের সম্মিলিত গ্রুপে একটি ম্যাসেজ দিয়ে বাঁচার আকুতি জানান। ওই ম্যাসেজে তিনি লিখেছিলেন, ‘প্রিয় ব্যাচমেট, শ্রদ্ধেয় সিনিয়র ভাই বোনেরা, আদরের জুনিয়র, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আমি যে মহাসমুদ্রের পরিমাণ বিপদে পড়েছি আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া এ বিপদ থেকে আমাকে কেউ উদ্ধার করতে পারবে না। আমি আবার আমার প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই, মোড়লে বসে আপনাদের সাথে আড্ডা দিতে চাই, আমি বাঁচতে চাই, আপনারা আমাকে বাঁচান।’

তিনি অনুরোধ জানিয়ে আরও লিখেছিলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে আমার লোক দরকার, আমার আব্বু তেমন একটা পড়াশোনা জানে না ও কিছু চেনেও না। এটাই হয়তো আমার এই গ্রুপে শেষ বার্তা হতে পারে। আমি বাঁচতে চাই, আপনারা আমাকে বাঁচান।’

উল্লেখ্য, ‘হিমোফিলিয়া’ হলো একটি বংশগত ও জিনগত রক্ত জমাট বাঁধার রোগ। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা ‘ক্লটিং ফ্যাক্টরের’ অভাব থাকে, ফলে শরীরের কোথাও কেটে গেলে বা আঘাত পেলে সহজে রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে চায় না।