১১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫২

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশে প্রথম ‘মেন্টাল হেলথ অলিম্পিয়াড’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়  © সংগৃহীত

ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোরোগবিদ্যা সম্পর্কিত জ্ঞান বিকাশ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত দক্ষতা জোরদারের লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘বিএপি মেন্টাল হেলথ অলিম্পিয়াড ২০২৬’। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের (বিএপি) উদ্যোগে এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সহযোগিতায় শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি (বিএমএসএস) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ কুইজিং অ্যান্ড ডিবেটিং সোসাইটি (ডিএমসিডিএস) অনুষ্ঠানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।

দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে এই প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ক্যাটাগরিগুলো যথাক্রমে—প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ (তৃতীয় ক্যাটাগরি), তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষ (দ্বিতীয় ক্যাটাগরি) এবং পঞ্চম বর্ষ (প্রথম ক্যাটাগরি)। প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের যথাক্রমে ৮ হাজার, ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা অর্থপুরস্কারসহ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, চিকিৎসা সেবায় শারীরিক সুস্থতার মতোই মানসিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সফল চিকিৎসক হতে হলে রোগীর কথা ধৈর্য ধরে শোনার এবং তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও যত্নশীল হওয়া জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, শুধু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চাওয়াদের জন্যই নয়, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের যেকোনো শাখায় ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক সবার জন্যই মানসিক স্বাস্থ্যের মৌলিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কারণ প্রায় সব ধরনের রোগীর মধ্যেই কোনো না কোনো মানসিক চাপ বা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অলিম্পিয়াড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে ‘ক্যারিয়ার ইন সাইকিয়াট্রি’ বিষয়ে কথা বলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. আনিকা বসারাত এবং ‘বাংলাদেশে বিএপি ও মানসিক স্বাস্থ্য’ নিয়ে উপস্থাপনা করেন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুজ্জামান। এ ছাড়া ডিএমসিডিএস-এর সৌজন্যে একটি আকর্ষণীয় ‘মক ডিবেট’ বা প্রদর্শনী বিতর্ক পরিবেশিত হয়।

বিএপির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মো. নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আইনুল ইসলাম খান।