বিএনপি নেতাদের মবের মুখে ভিসির পদত্যাগ, আইনি ব্যবস্থার দাবি চিকিৎসকদের
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে মব করে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করানোর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহীর সর্বস্তরের চিকিৎসকরা। আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলার সর্বস্তরের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইনকে। এতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী মহানগর জিয়া মঞ্চের সভাপতি কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ ও রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালাম। ঘটনাস্থলে পদত্যাগপত্র নিয়ে আসেন সাগর নামে এক বিএনপিকর্মী। হারুন ও সালাম উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে সই করতে বাধ্য করেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দায়ের করা একটি মামলায় আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে রাজপাড়া থানা পুলিশ। এই মামলায় বিএনপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে মোট ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে চিকিৎসকরা বলেন, রামেবির ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের ওপর একদল ব্যক্তি চাপ সৃষ্টি করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের ঘটনা একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।
বক্তারা বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। ভয়ভীতি, চাপ প্রয়োগ কিংবা ‘মব’ সৃষ্টি করে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।
এ সময় ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে রামেবির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চিকিৎসা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ঘটনার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ভুক্তভোগী দুজন। ভিসির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, তাকেও একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তিনি বাধ্য হয়ে ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন।
রামেবি ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের ভাষ্য, তাকে কাগজটি ভালোভাবে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি কেবল প্রথম বাক্যে ‘পদত্যাগপত্র’ শব্দটি দেখতে পেয়েছিলেন। পরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে তালা দেওয়া, সিসিটিভি ব্যবস্থার সিপিইউ ও হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া এবং বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা।