০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১০

মব করে উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক  © টিডিসি সম্পাদিত

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে কার্যালয়ে ঢুকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য জানা গেছে।

উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাজমুল হোসেন এ মামলা দায়ের করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা ব্যানারে একটি দল উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিএনপি ও যুবদলের ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে পিএস নাজমুল হোসাইনকে মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নাজমুল হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তারা ভিসির সঙ্গে কথা বলতে চান বলে এসেছিলেন। অনুমতি নেওয়ার কথা বললে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তারা উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে পড়েন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ভিসিকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে আবার বসানো হয়। এরপর আগে থেকে লিখে আনা একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। তিনি স্বাক্ষর করতে না চাইলে তাকে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকেও একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিনি স্বাক্ষর করেন।’

উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল তার কার্যালয়ে ঢুকে অশালীন আচরণ করে। পরে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়ে তিনি স্বাক্ষর করেন।

আরও দেখুন: অর্ধশত জনবল নিয়োগ দেবে বুয়েট, আবেদন অনলাইনে

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কাগজে কী লেখা ছিল, তা পড়ার সুযোগ পাননি। শুধু প্রথম বাক্যে পদত্যাগপত্র শব্দটি দেখতে পেয়েছেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।’

উপাচার্য বলেন, ‘হামলাকারীরা স্থানীয়দের বাদ দিয়ে ঢাকার লোকজনকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ তোলে। তবে এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীরা জড়িত কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। ঘটনার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপাচার্য।

এদিকে ঘটনার পর রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। 

রাজপাড়া থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম আজাদ তথ্য নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ’

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে তালা দেওয়া হয়। সিসিটিভির সিপিইউ ও হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া এবং বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগও পাওয়া যায়। এতে রামেবির স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি নজরুল হুদার ইন্ধনে এর আগে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে ঢাকার লোকজনকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওই পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হয়।

আরও দেখুন: রিটেন টিকেও দেননি বিসিএস ভাইভা, ছেড়েছেন প্রথম সারির দুই সরকারি চাকরি; বুয়েটের নায়লা এখন নিভৃত গ্রামে মানুষ গড়ছেন

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু প্রশাসনিক কার্যালয়ে ঢুকে কোনো কর্মকর্তাকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, দাপ্তরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া কিংবা যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ গুরুতর।

ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত রামেবির স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, চলমান নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যালয়ে ঢুকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করল, তাদের হাতে আগে থেকে প্রস্তুত পদত্যাগপত্র কীভাবে গেল এবং সিসিটিভির হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো এসব প্রশ্নও উঠেছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।