১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৯

ডেন্টিস্ট পরিচয়ে রোগীর চোয়াল ভেঙে দেওয়া কর্মচারীকে অব্যাহতি, তদন্তে কমিটি

ভুক্তভোগী সবুজ ও ভুয়া দন্ত্য চিকিৎসক আমিরুল ইসলাম (বাম দিক থেকে)  © সংগৃহীত

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের বয়েজ হোস্টেলের স্টোর কিপার আমিরুল ইসলামের হাতে চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার সময় চোয়াল ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তে কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গঠিত এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে ওই কর্মচারীকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সায়েন্স অব ডেন্টাল ম্যাটেরিয়ালস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম। কমিটির অপর সদস্য হলেন—ডা. আনোয়ার সোহেল ও ডা. সমীর কুমার বনিক।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল আওয়াল গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, অভিযোগের মূল বিষয় হলো—ওই কর্মচারী চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নিয়েছেন এবং লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি-না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যেহেতু আমাদের অফিসের একজন স্টাফ জড়িত, তাই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে দুটি বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। একটি হলো, ডাক্তার না হয়েও ডাক্তার পরিচয়ে সুবিধা নেওয়া বা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা। আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো—তিনি লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

ডা. আব্দুল আওয়াল বলেন, তদন্ত চলাকালে তাকে অফিসের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা অন্য কোনো গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে আমিরুলের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন গাজীপুরের ইমাম সাইদুর রহমান সবুজ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সবুজকে আক্কেল দাঁত তুলে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে দাঁত তোলার সময় জটিলতা তৈরি হওয়ার পরও ব্যথা না কমায় পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্স-রে পরীক্ষায় দাঁতের গোড়া ও চোয়ালে সমস্যার তথ্য ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ‘চিকিৎসকের’ বিরুদ্ধে গাজীপুর আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি এখনো চলমান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আমিরুল দাবি করেছেন, তার চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা হয়নি।