মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষে আহত সেই শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কা
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনার তিন দিন পরও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত বুধবার (২০ আগস্ট) মধ্যরাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তাফসির গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাফসিরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসক জানিয়েছেন, আক্রান্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি নেমে এসেছে ‘ফিঙ্গার কাউন্টিং’ পর্যায়ে। অর্থাৎ খুব কাছ থেকে হাতের আঙুল নড়াচড়া করলে তা শুধু আবছাভাবে বোঝা যায়। এ ছাড়া তার রেটিনাল হেমোরেজ, নাকের হাড় ভাঙা, গালের হাড় ও চোখের নিচের কোটরের হাড় ভাঙা এবং সাইনাসের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসক শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আঘাতের কারণে চোখের দৃষ্টিস্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে আক্রান্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সহপাঠী ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই পক্ষই মেডিকেল শিক্ষার্থী। ঘটনাটি নিছক সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের ফল, নাকি এর সঙ্গে কোনো সংগঠন-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক উপাদান জড়িত, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাফসিরের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা ও ছাত্রত্ব বাতিল করা, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং তাফসিরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষের গ্রহণ করা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।