মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পরিচর্যার জন্য দক্ষ কর্মী জরুরি
নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারে (মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা) আক্রান্ত শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য দক্ষ পেশাজীবী, সচেতন অভিভাবক এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সার্টিফিকেট কোর্স অন নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার’-এর শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) বিএমইউর ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমের (ইপনা) উদ্যোগে ‘সার্টিফিকেট কোর্স অন নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার’-এর ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশে অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সেবার মান উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে এই বিশেষায়িত কোর্সের আয়োজন করা হয়। এবারের ব্যাচে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত থেরাপিস্ট, সাইকোলজিস্ট (মনোবিজ্ঞানী), স্পেশাল এডুকেশন টিচার (বিশেষ শিক্ষক) এবং অটিজম আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকেরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য দক্ষ পেশাজীবী ও সচেতন অভিভাবক তৈরি করা এবং সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। আর এই কোর্সটি থেরাপিস্ট ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের বৈজ্ঞানিক উপায়ে সহায়তার ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী করে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, যারা এই ট্রেনিং নিয়েছেন—তাদেরকে এই শিক্ষা, মানবিক ও সামাজিক দ্বায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। প্রাইমারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে সচেতন বৃদ্ধি করতে হবে।
উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ প্রদান করতে হবে এবং সেই সাথে শিশুদের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার রোধের জন্য পারিবারিকভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর প্রতি যত্নশীল হতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে জন্য সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে প্রচার, প্রচারণা ও সচেতনতা উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ইপনার পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র তুলে দেন এবং মাঠপর্যায়ে এই অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুদের জীবনমান উন্নয়নের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাস্সুম আলম জানান, এই ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে সারা দেশের এই রোগ সম্পর্কে ধারণা ও সঠিক চিকিৎসা ছড়িয়ে পড়বে এবং সুন্দর সুস্থ সমাজ গড়তে এই ট্রেনিং প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।