মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পর হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পর অবশেষে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
২০০৮ সালে জেলা সদর হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করে মেডিকেল কলেজটি। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে গেলেও একটি পূর্ণাঙ্গ ‘টিচিং হাসপাতাল’ স্থাপন হয়নি। এবার ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আবাসন, নার্সিং ডরমিটরি, স্টাফ কোয়ার্টার, মসজিদসহ ২৬টি অবকাঠামোর কাজ একসঙ্গে শুরু হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন না হওয়া এই হাসপাতাল ভবনের প্রকল্প অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার অনুরোধে অনুমোদন দিয়েছে। সেই কারণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সুযোগ তার ভাগ্যে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসপাতালটির যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনাদের হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য আমি ৪টি বাস ও ২টি মাইক্রোবাস দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছি। যদিও বিষয়টি এখনই শতভাগ পাকা বলছি না, তবে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেন এগুলোর দ্রুত ব্যবস্থা করা যায়।
এ ছাড়া ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি অবৈধ দখলদাররা বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তবে শিক্ষার্থীদেরই ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দাঁড়াতে হবে।
এ সময় ইভটিজিং প্রতিরোধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে ইভটিজিংয়ের কথা বলা হয়েছে। আমি এসপি সাহেবকে নির্দেশ দিচ্ছি—তিনি যেন অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করেন, পাশাপাশি তাৎক্ষণিক পুলিশ বক্স স্থাপন ও সর্বক্ষণ আনসার নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে এটি চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ চিকিৎসক গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুর হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মাদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান।
এ ছাড়া অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।