মেডিকেল শিক্ষার গুণগত রূপান্তর শিক্ষকদেরই করতে হবে, নেতারা করে দেবে না
বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাজুয়েট ও পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত রূপান্তরের দায়িত্ব মেডিকেল শিক্ষকদেরই। কোনো রাজনীতিক কিংবা নেতা এই পরিবর্তন করে দেবেন না। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম এমন মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে ‘ট্রান্সফরমিং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যান্ড পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস, অপরচুনিটিজ, অ্যান্ড দ্য ইভলভিং রোল অব মেডিকেল টিচার্স’ শীর্ষক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের চিকিৎসাশিক্ষার আধুনিকায়ন, বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং চিকিৎসকদের শিক্ষাদান পদ্ধতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল পাটোয়ারীর যৌথ আমন্ত্রণে গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী অংশ নেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন। দেশের বর্তমান চিকিৎসাশিক্ষার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে ড. রুহুল আমিন বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের চিকিৎসাশিক্ষার কারিকুলাম ও শিক্ষাদান পদ্ধতিতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা জরুরি।
এ সময় মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা চিকিৎসাশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, মানসম্মত গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুচিন্তিত পরামর্শ দেশের চিকিৎসাশিক্ষার ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে নীতি নির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে আয়োজকবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচ্য বিষয় প্রসঙ্গে বিএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, এই দেশে চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়, অনেক সমালোচনা হয়। আমরা অনেক সমালোচনায় অংশগ্রহণ করি, কিন্তু সেই সমালোচনার পরে গন্তব্য কী হয়? উপসংহার হয় একটা হতাশাজনক বিষয় যে, আমরা খালি পেছনেই যাচ্ছি, আমরা আগাচ্ছি না। অতএব আমরা চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে বেশি আলোচনা না করে, প্রকৃতই যদি আমরা কিছু করতে চাই— তাহলে তা ব্যক্তিগতভাবে এবং স্বাধীনভাবে আমাকেই করতে হবে।
তিনি বলেন, মনীষীরা পৃথিবীর পরিবর্তন দুইভাবে করেছেন— একটা তো নবী-রাসূলরা করেছেন আপনারা জানেন। আর পৃথিবীতে কিছু ফিলোসফার তৈরি হয়েছেন, কিছু দার্শনিক তৈরি হয়েছেন, যারা তাদের দর্শনের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দিয়ে সমাজকে পরিবর্তন করেছেন। এরা সবসময় উচ্চশিক্ষিত মানুষ ছিলেন— তা স্বশিক্ষিত হোক আর একাডেমিক শিক্ষিত হোক।
অধ্যাপক শাহিনুল আলম বলেন, আজকে আমরা যারা মেডিকেল শিক্ষা বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষক, বাংলাদেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বা চিকিৎসা শিক্ষার পরিবর্তন করতে হলে আমাদেরকেই পরিবর্তন করতে হবে। নো ওয়ান এলস; নট দ্য পলিটিশিয়ান, নট দ্য লিডারস। তাদেরকেও আমাদেরকে বোঝাতে হবে, তাদেরকে আমাদের সাথে নিতে হবে।
‘এই ট্রান্সফরমিং অবস্থায় মেডিকেল এডুকেশনের এবং বাংলাদেশের ক্রাইসিস, চ্যালেঞ্জেস এবং অপরচুনিটির মধ্যে আমি বা আপনি কী করতে পারি?’— প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে মূল আলোচনা। মেডিকেল এডুকেশনকে রিয়েলি আমাদেরকে তুলে ওঠাতে হবে।
তবে পৃথিবীতে চ্যালেঞ্জ কখনোই কমবে না বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন সাবেক উপাচার্য। তিনি বলেন, আমরা যতটুকু দেখেছি, এই চ্যালেঞ্জ কমবে না, বরং আরও বাড়বে। পৃথিবীর সকল পরিবর্তন, তারাই অগ্রদূত হয়েছে— যারা বঞ্চিত হয়েছে, যারা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। অনেক বঞ্চনা-বৈষম্য অতিক্রান্ত হয়েছে, সামনেও কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। অতএব, এই বঞ্চিত মানুষই আগামী সময়কে পরিবর্তন করবে।