২৩ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৬

নিজ কলেজে মেডিকেল অফিসার হলেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি

ডা. মাহমুদুল হক রিফাত, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার (সাইকিয়াট্রি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. মাহমুদুল হক রিফাতকে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।

ডা. রিফাত বর্তমানে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার মূল পদ সহকারী সার্জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে, আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মে মাসে মাহমুদুল হক রিফাতকে সভাপতি এবং সজল এস চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের ৪ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ। ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মাহমুদুল হক রিফাতের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাস থেকে আরিফুল হক নামে ৫৪তম ব্যাচের (তখন ৩য় বর্ষ) এক ছাত্রকে নির্যাতন করে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন মাহমুদুল হক রিফাত ও তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগ সম্পাদক সজল এস চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, সজল এস চক্রবর্তী বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট হিসেবে কর্মরত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় সজল চক্রবর্তীসহ আটজন সাবেক ও তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসে আজীবনের জন্য অবাঞ্ছিত করা হয়। অবাঞ্ছিত হয়েও গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা দেখতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন তিনি।