ঢামেকে পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি বেশি, আমরা শেখার সুযোগ পাই না: প্রধানমন্ত্রীকে ইন্টার্ন চিকিৎসক
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পোস্টগ্রাজুয়েট পর্যায়ের প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক বেশি হয়ে যাওয়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাতে-কলমে শেখার পর্যাপ্ত সুযোগ পান না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এমনই অভিযোগ করেছেন এক ইন্টার্ন চিকিৎসক। ইন্টার্নদের কাজ করার সুযোগ আরও বৃদ্ধির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮১তম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই দাবি জানান তিনি।
ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার। অনেক কিছুই আমরা শিখেছি। কিন্তু এর বাইরেও আমি বলতে চাই যে— আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে অনেক পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার কারণে অনেক সময় আমরা ইন্টার্নরা কাজ করার সুযোগটা যথাযথভাবে পাই না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ইন্টার্নদের কাজ করার সুযোগটা যথাযথভাবে আরো যাতে বাড়ানো যায়, আরো যাতে আমরা শিখতে পারি— এ ব্যাপারে আপনার একটু সহযোগিতা কামনা করছি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেন পান না? কী কারণে?’ এর জবাবে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনির সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের ওয়ার্ডগুলোতে পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনির সংখ্যা অনেক বেশি।’
প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ‘তাহলে এটার সলিউশনটা কী?’ ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, ‘ইন্টার্নদের প্রতি আরেকটু বেশি ফোকাস দিতে হবে এবং এদের কাজ করার সুযোগটা আরেকটু বাড়াতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘কে করবে এটা? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভাই আমি তো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ না। সলিউশনটা আপনাদের কাছেই আছে। আপনাদেরকেই বসে সলিউশনটা বের করতে হবে। তাই না?’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮১তম দিবস উপলক্ষে শুক্রবার ‘দেড় দশক ধরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ১২০ বছরের পুরোনো ভবন, রোগীর সাথে চাপ অতিরিক্ত চিকিৎসকেরও’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। ওই প্রতিবেদনে হাসপাতালটিতে অতিরিক্ত ট্রেইনি চিকিৎসক সংযুক্ত থাকার তথ্য উঠে আসে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক এফসিপিএস ও অন্যান্য পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী ঢামেকে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী হওয়ায় অনেক ইউনিটে রোগীর চেয়ে চিকিৎসকই বেশি হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রশিক্ষণের মান, রোগীর গোপনীয়তা ও সেবার পরিবেশ— সবকিছুর ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপরও।
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢামেক হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠা একটি একাডেমিক হাসপাতাল হিসেবে। এর মূল উদ্দেশ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। তবে সে স্থান বর্তমানে দখল করেছেন পোস্টগ্রাজুয়েশন পর্যায়ের চিকিৎসকরা।
তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ চিকিৎসক রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। এর মধ্যে হাজারখানেক চিকিৎসক নিয়োগপ্রাপ্ত, যার প্রায় অর্ধেক কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক। এ ধরণের চিকিৎসক রয়েছেন ৪২০ থেকে ৪৪০ জন। এর বাইরে বড় একটি অংশ মূলত পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এক একটা ইউনিটে ৫০-৬০ জন করে ডাক্তার হয়ে গেছে। যেখানে রোগী আছে হয়ত ৩০ জন বা ৪০ জন, ডাক্তার আছে ৫০ জন বা ৬০ জন। ফলে তাদের ট্রেনিংটা ভালো হচ্ছে না। একই সাথে একটা রোগীকে কতটা ইরিটেট করা যায়? সবাই রোগীকে দেখতে চায়। ৫০ জন চিকিৎসক থাকলে যদি ৫০ বার যায়, তাহলে সে রোগী বিরক্ত হবে না? ফলে বিসিপিএসের একোমোডেশন পলিসি অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেলের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পর্যাপ্ত ট্রেইনি চিকিৎসকদের অ্যালটমেন্ট হওয়া প্রয়োজন। এতে ঢামেকের ওপর চাপ কমবে।