০৩ জুলাই ২০২৬, ২২:৩১

হোয়াটসঅ্যাপে কর্মকর্তাদের ব্যাংক-বিকাশের ওটিপি চাইলেন ‘নকল অধ্যক্ষ’, থানায় জিডি

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) অধ্যক্ষ মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলামের নাম, ছবি ও পদবি ব্যবহার করে সহকর্মীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছে একটি ডিজিটাল প্রতারক চক্র। মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য চুরি করে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওটিপি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিজের নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিশ্চিত করতে কুমিল্লার কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী কুমেক অধ্যক্ষ।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, ০১৩০৯৭৩৩৫৩৫ এবং ০১৮২২৫৬৯৬২৭— এই দুটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রতারক চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে কুমেক অধ্যক্ষের ছবি ও নাম দিয়ে প্রোফাইল খোলে। এরপর কলেজের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের ফোন ও ম্যাসেজ দিয়ে হুমকি দেওয়া শুরু করে। বিভিন্ন কায়দায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে কর্মকর্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ নম্বরের গোপন ওটিপি কোড চাওয়া হয়।

কুমেক অধ্যক্ষ মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, কেউ একজন আমার পরিচয় ব্যবহার করে সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করছে দেখে সবার সন্দেহ হয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমাকে জানান। খবর পাওয়ার পরপরই আমি সহকর্মীদের বিভিন্ন অফিশিয়াল গ্রুপে সতর্কবার্তা দিই, যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হন।

প্রতারণার ধরণ সম্পর্কে অধ্যক্ষ আরও জানান, প্রতারকেরা তার পরিচয় ভাঙিয়ে সহকর্মীদের কাছে সরাসরি ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও ওটিপি চেয়েছে। তবে হুমকির শিকার হওয়া কর্মকর্তারা বিস্তারিত আরও তথ্য দিতে পারবেন। অধ্যক্ষ নিজে এই চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন। স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কলেজের কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি।

ঘটনার পরপরই অধ্যক্ষ তাইয়েবুল ইসলাম জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) এবং কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পুরো বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেন। জিডি দায়েরের পর থেকে পুলিশও তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সাইফুর রহমান খান বলেন, জিডির কপিটি এখনও অফিশিয়ালি হাতে এসে পৌঁছায়নি। হাতে পাওয়া মাত্রই আমরা তদন্ত শুরু করব এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।