০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯

সিলগালা করা ওয়ার্ডের চাবি ফিরে পেল আদ্-দ্বীন

আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল  © টিডিসি ফটো

সিলগালা করে রাখা শিশু ওয়ার্ডের চাবি ফিরে পেয়েছে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওয়ার্ডটির চাবি বুঝে পাওয়ার পর সেখানে মেরামতকাজ শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে সিলগালা করা শিশু ওয়ার্ডের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালটির পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সিলগালা করা শিশু ওয়ার্ডের চাবি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা রুমটির মেরামতকাজ শুরু করেছি। এছাড়া হাসপাতালের বাকি ওয়ার্ডগুলোরও মেরামতকাজ চলছে।

তিনি বলেন, আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে আমরা হাসপাতালের যাবতীয় মেরামতকাজ সম্পন্ন করে নিচ্ছি।

এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। একই হাসপাতালে প্রায় একই সময়ে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর এ ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগীরা। সেদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, যে ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ‘শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি’ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা কাটল

পরবর্তীতে ৪ জুন তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং দায়িত্বরত নার্স ও স্টাফদের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালটিকে ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’—মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সেখানে ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

এরপর ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেওয়া জবাব ও ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ওই আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আইনি সুযোগ রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ‘মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ অনুযায়ী আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

এরপরই হাসপাতালটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। অনেকেই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে বন্ধ করার বিপক্ষে অবস্থান নেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও বারবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছিল।

সবশেষ রবিবার (২৮ জুন) সংসদেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান, হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত হাসপাতালটি বন্ধ করার জন্য নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলেছেন, সেখানে ২০০-২৫০ টাকায় ডায়ালাইসিস হয়। সেটি সত্য। কিন্তু মাথাব্যথা হলে যেমন মাথা কেটে ফেলা যায় না, তেমনই যারা ভুল করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি, হাসপাতাল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিইনি।’